বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্যে সুদানে নিয়োজিত থেকে অকালে ঝরে পড়া বাংলাদেশের ছয় বীর সেনার জানাজা আজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত জানাজায় দেশের বীর সন্তানদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ। শহীদদের ত্যাগ ও বীরত্বগাথা স্মরণ করে এক গভীর শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এখন মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং নিজ নিজ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শনিবার সকালে শহীদদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো সেনাবাহিনী এবং শহীদদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমের নেতৃত্বে সামরিক কায়দায় শ্রদ্ধা জানানো হয়। আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, মরদেহের সাথে যাওয়া সামরিক প্রতিনিধি দল প্রতিটি এলাকায় দাফন কার্য তদারকি করবে। ড্রোন হামলার সেই ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা বজায় রেখেছিলেন।
সুদানের আবেই এলাকায় শান্তি স্থাপনে কাজ করা এই সেনাসদস্যরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পতাকাকে উজ্জ্বল করেছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাপুরুষোচিত ড্রোন হামলার শিকার হওয়া এই শান্তিরক্ষীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দেশব্যাপী দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকার এবং সেনাবাহিনী শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই বীরদের মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবিচল নিষ্ঠার প্রতীক। তাদের এই মহান আত্মদান নতুন প্রজন্মের সৈনিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।