রাজনীতি

ইনকিলাব মঞ্চের কারিগর হাদি: ফ্যাসিবাদের বিপরীতে এক বিকল্প কণ্ঠস্বর

ইনকিলাব মঞ্চের কারিগর হাদি: ফ্যাসিবাদের বিপরীতে এক বিকল্প কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে সংগঠনটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তা হলো 'ইনকিলাব মঞ্চ'। আর এই মঞ্চের প্রধান কারিগর ছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। শেখ হাসিনার পলায়নের পর যখন দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছিল, তখন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে জুলাই গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হন। তার আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ছিল না, বরং তিনি 'ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার' গঠনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও লড়াই শুরু করেছিলেন।

ওসমান হাদির লড়াই ছিল বহুমুখী। তিনি যেমন আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তেমনি প্রয়োজনে বিএনপি বা জামায়াতের ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। এই নিরপেক্ষতা ও সত্যবাদিতা তাকে খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দেয়। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ, যারা এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না, হাদি তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার এই উত্থান কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলশ্রুতিতে তাকে আততায়ীর বুলেটের শিকার হতে হয়।

হাদির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা বলেন, তিনি সবসময় ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের কথা বলতেন। এমনকি তার নির্বাচনী তহবিলের হিসাব তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করতেন, যা বর্তমান সময়ে অকল্পনীয়। তার স্বপ্ন ছিল একটি অভাবমুক্ত ও শোষণহীন বাংলাদেশ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দীন মনে করেন, হাদির লড়াই ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে হাদির সেই স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

হাদি মারা গেছেন, কিন্তু তিনি যে চেতনার বীজ বপন করে গেছেন, তা এখন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। তার জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষ সাহসীদের ভালোবাসে। ওসমান হাদির মৃত্যু আমাদের এই বার্তা দিয়ে যায় যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ গড়তে হলে তরুণদেরকেই নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে পারে না; তার আদর্শ বাস্তবায়নই হোক আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।