শরিফ ওসমান হাদি—একটি নাম, একটি বিপ্লব। ৩৩ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে, দেশপ্রেমের জন্য বয়স নয়, হৃদয়ের বিশালতাই যথেষ্ট। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিলের সম্মুখভাগে থাকার যে স্বপ্ন তিনি দেখতেন, সেই স্বপ্নের পথেই তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর কণ্ঠ ছিল সবচেয়ে জোরালো। তিনি মনে করতেন, শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক হবে জবাবদিহিতামূলক।
হাদির জীবন ছিল সংগ্রামের। তিনি বলতেন, "মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমরা শাহাদতের জন্যই পৃথিবীতে এসেছি।" তাঁর সেই সাহসের প্রতিফলন দেখা গেছে রাজপথে প্রতিটি লড়াইয়ে। তিনি কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই ছিলেন না, বরং তাত্ত্বিকভাবেও তিনি রাষ্ট্র গঠনের নতুন বয়ান তৈরি করেছিলেন। নিজের পরিবার ও একমাত্র সন্তানের মায়ার চেয়েও দেশমাতৃকার মুক্তি তাঁর কাছে বড় ছিল।
আজ তাঁর লাশ যখন কফিনে করে প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে, তখন শোকের ছায়া নেমে আসে সবখানে। রবীন্দ্র-নজরুল-রুদ্রর কবিতার মতো তাঁর জীবনটিও ছিল দ্রোহ ও প্রেমে ঘেরা। হাদি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে ইনসাফের দাবি হয়ে বেঁচে থাকবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে হাদির মতো নির্ভীক নেতৃত্বের অভাব দীর্ঘকাল অনুভূত হবে। তাঁর এই আত্মত্যাগ দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার ইতিহাসকে আরও মহিমান্বিত করেছে।