ক্রেমলিনের গম্ভীর রাজনৈতিক আবহে সাধারণত হাসি-ঠাট্টা বা ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশের সুযোগ খুব একটা থাকে না। কিন্তু মস্কোর সর্বশেষ বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনটি ছিল একেবারেই আলাদা। ইউক্রেন যুদ্ধ আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আলোচনা ছাপিয়ে সেখানে প্রাধান্য পায় মানবিকতা আর প্রেমের গল্প। এই ঘটনার মূল কেন্দ্রে ছিলেন তরুণ সাংবাদিক কিরিল বাঝানোভ, যিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসেন।
কিরিল বাঝানোভ দর্শক সারিতে বসা ছিলেন একটি ছোট প্ল্যাকার্ড হাতে, যাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল—'আমি বিয়ে করতে চাই'। রাশিয়ার মতো দেশের প্রেসিডেন্টের সামনে এমন সাহসী ও অদ্ভুত প্রদর্শন দেখে উপস্থিত সবাই অবাক হলেও পুতিনের চোখ এড়ায়নি বিষয়টি। পুতিন হাস্যরসে মেতে উঠে বলেন, এই আবেদন উপেক্ষা করা অসম্ভব। তিনি কিরিলের পরিপাটি পোশাক দেখে রসিকতা করে বলেন যে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে সরাসরি বিয়ের রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে।
পুতিনের এমন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সুযোগে কিরিল সরাসরি লাইভ ক্যামেরার সামনে তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। তিনি বলেন, তিনি জানেন যে তার প্রেমিকা ওলেচকা এই মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি দেখছেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'ওলেচকা, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?' এই অভাবনীয় দৃশ্যটি পুরো বিশ্বকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়—যুদ্ধ আর ধ্বংসের মাঝেও প্রেম বেঁচে থাকে। এমনকি কিরিল মজা করে পুতিনকে তার বিয়েতে দাওয়াতও দিয়ে বসেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যখন জানানো হয় যে ওলেচকা রাজি হয়েছেন, তখন পুরো সভাকক্ষে এক আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। এই ঘটনাটি রুশ সরকারের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক প্রচারের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এর মাধ্যমে পুতিনকে একজন কঠোর একনায়কের বদলে একজন সহনশীল ও রসিক অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনটি যেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কচকচানি চলার কথা ছিল, সেখানে এই মানবিক ঘটনাটি সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
ইউক্রেন সংকটের এই উত্তাল সময়ে রাশিয়ার ভেতরে জাতীয়তাবাদ চাঙ্গা রাখতে এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রেসিডেন্টের সামনে সরাসরি লাইভ টিভিতে এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব হয়েছে—এটিও এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেয় যে রাশিয়ার সমাজ এখনও প্রাণবন্ত। পুতিন নিজেও এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ উপভোগ করেছেন বলে মনে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনটি রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে এক মানবিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। পুতিনের প্রেমের স্বীকারোক্তি এবং সাংবাদিকের বিয়ের প্রস্তাব—সব মিলিয়ে এবারের বার্ষিক সম্মেলনটি ইতিহাসের পাতায় এক ভিন্ন কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে যে ভূ-রাজনীতির বড় বড় সংঘাতের মাঝেও মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ ও ভালোবাসার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।