আইন ও আদালত

যমুনায় বিশেষ বৈঠক: অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ

যমুনায় বিশেষ বৈঠক: অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, যমুনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যার ঘটনাগুলোর তদন্তের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হয়।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে। ইতিমধ্যে সোমবার সকাল পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। এই গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।

শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক এই তরুণ নেতার হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটবর্তী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার এটি স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর।

বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং এর পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকল দলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যেন অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বৈঠকটি ছিল একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার নতুন পথ দেখাবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা এই বৈঠকের অন্যতম অর্জন।