রাজনীতি

রাজসিক সংবর্ধনায় প্রস্তুত রাজধানী: তারেক রহমানের আগমনে উৎসবের আমেজ

রাজসিক সংবর্ধনায় প্রস্তুত রাজধানী: তারেক রহমানের আগমনে উৎসবের আমেজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। তার এই রাজসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে। বিশেষ করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ গণজমায়েত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ এখন দৃশ্যমান। প্রকৌশলী ও ডেকোরেটর কর্মীদের বিশাল একটি দল দিনরাত পরিশ্রম করে মঞ্চের কাঠামো দাঁড়িয়ে করছে। কমিটির নেতারা সরাসরি এই কাজের তদারকি করছেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ইতোমধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে সংবর্ধনা আয়োজনের লিখিত অনুমতি লাভ করেছেন। এই অনুমতি পাওয়ার পর নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তাকে বরণ করে নিতে রাস্তার দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়াবেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এরপর বিমানবন্দর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট এলাকায় তার বিশাল সংবর্ধনার মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে দলটির পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। প্রায় দেড় দশক পর তিনি দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে কথা বলবেন, যা নেতা-কর্মীদের জন্য এক অভাবনীয় পাওনা। সাধারণ জনগণের মাঝেও এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুমতিপত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও বিএনপি নেতারা আশাবাদী যে, অনুষ্ঠানটি হবে শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল। ৩০০ ফিটের বিস্তীর্ণ এলাকায় এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে যেন দূর থেকেও মানুষ প্রিয় নেতার বক্তব্য শুনতে ও দেখতে পারেন। তারেক রহমানের ফিরে আসা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।