বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘টার্গেট কিলিং’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাগুলো জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক একই স্টাইলে খুলনায় হামলার শিকার হলেন এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদার। সোমবার দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গায় তাকে অতি কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এই হামলার ধরন ও সময় নির্দেশ করছে যে, একটি পেশাদার ঘাতক চক্র জুলাই বিপ্লবের সংগঠকদের টার্গেট করছে।
সোনাডাঙ্গা শেখপাড়া পল্লী মঙ্গল স্কুল এলাকায় যখন এই হামলা ঘটে, তখন রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাতকরা পূর্ব থেকেই মোতালেব শিকদারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। তিনি যখন তার বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন, তখনই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় আঘাত পাওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মোতালেব শিকদার জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একজন প্রভাবশালী সংগঠক হওয়ায় এই ঘটনার প্রভাব সারা দেশে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপি এবং শ্রমিক শক্তির পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যকে নস্যাৎ করতে চায়, তারাই এখন সম্মুখসারির নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ডা. মাহমুদা মিতু এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি এবং মোতালেব শিকদারের ওপর হামলার ধরন এক হওয়াটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিভ উদ্ধারে তারা কাজ করছেন। খুলনার বিভিন্ন প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, রাজধানীতে শুরু হওয়া এই সহিংসতার ঢেউ এখন বিভাগীয় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে এই ধরণের চোরাগোপ্তা হামলা দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।