শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ রাজধানীর শাহবাগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, অবিলম্বে একটি বিশেষ বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ও সাহসী নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে প্রয়োজনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমরা অতীতের অনেক বড় ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দেখেছি, হাদির ক্ষেত্রেও তা করতে হবে।”
আবদুল্লাহ আল জাবেরের মতে, ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি কোনো প্রকার ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে রাজপথে সত্য কথা বলতেন। তার অনুপস্থিতি দেশের স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত হানতে পারে বলে ইনকিলাব মঞ্চ মনে করে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের আপাত স্থিতিশীলতার পেছনে হাদির মতো তরুণ নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এখন যদি রাষ্ট্র এই খুনিদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাবে এবং একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, বর্তমানে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের ভাষায়, “হাদিকে মেইন সাবজেক্ট থেকে বাদ দিলে বাংলাদেশের আর কোনো বিষয়ই মূল আলোচনা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।” তারা মনে করে, রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত এখন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত। বিচার নিশ্চিতে বিলম্ব হলে জনগণের ক্ষোভ রাজপথে আরও তীব্রভাবে আছড়ে পড়বে বলে সংগঠনটি সতর্ক করেছে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল পালিত হচ্ছে। মিছিলটি থেকে সরকারের প্রতি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জোরালো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কোনো কার্যকর ঘোষণা না এলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন। ঢাকা-৮ আসনের এই সম্ভাব্য প্রার্থীর মৃত্যু জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলছে। ছাত্র-জনতার দাবি একটাই, দ্রুত তদন্ত শেষ করে পর্দার আড়ালের মূল হোতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক।