খুলনার সোনাডাঙ্গায় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের চেষ্টার পর অপরাধীদের গ্রেফতারে মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় বেনাপোল সীমান্তে জারি করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে আসছে। প্রশাসনের ধারণা, অপরাধীরা গ্রেফতার এড়াতে বেনাপোল বা পার্শ্ববর্তী কোনো এলাকা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন পুরো সীমান্ত এলাকায় সার্চ অপারেশন শুরু করেছে।
বিজিবির টহল দলগুলোতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আমড়াখালি, রঘুনাথপুর, শিকারপুর এবং শালকোনার মতো প্রত্যন্ত সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে যেখানে নজরদারি রাখা কঠিন, সেখানে ড্রোন বা বিশেষ টেকনিক্যাল নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে যেন কোনো অচেনা বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি সীমান্তে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করে।
৪৯ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিজিবির এই চিরুনি অভিযান চলছে। কেবল স্থল পথ নয়, জলপথেও ছোট ছোট ডিঙি নৌকাগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। লেঃ কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে কেউ যেন সীমান্ত পার হতে না পারে সেটি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমানে বেনাপোল আইসিপি দিয়ে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীদেরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। খুলনার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের না করা পর্যন্ত এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি দিনরাত টহল দিয়ে যাচ্ছে।