হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন জুমা। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, হত্যাকারীদের রক্ষায় যে কোনো প্রকার পর্দার আড়ালের সমঝোতা জনগণ মেনে নেবে না। বিশেষ করে তথাকথিত সুশীল সমাজের একাংশের নীরবতা বা নমনীয় ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, খুনের বদলে কেবল ফাঁসি বা যাবজ্জীবনের মতো সাজাই পারে বিচারপ্রার্থী পরিবারের মনে শান্তি ফিরিয়ে দিতে।
সংবাদ সম্মেলনে জুমা বলেন, "আমাদের লড়াই কেবল একজন হাদির জন্য নয়, বরং এই লড়াই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য। অপরাধী যদি আজ সুশীলতার সুযোগে পার পেয়ে যায়, তবে আগামীতে অন্য কেউ নিরাপদ থাকবে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পুলিশি তদন্তে যেন কোনো প্রকার গাফিলতি না হয়, সেদিকে দেশের আপামর জনতাকে সজাগ থাকতে হবে। হাদির মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি সমাজের পচনশীল ব্যবস্থার একটি বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুমার এই সরাসরি হুশিয়ারি প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। হাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের সামনে আনা এখন সময়ের দাবি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে। জুমা তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খুনিদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে বিচার বিভাগের জন্য এক কালো অধ্যায়।
অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে হাদির পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কেবল টাকার অঙ্কে সম্ভব নয়। প্রকৃত বিচারই পারে তাদের শোক লাঘব করতে। জুমা আশ্বাস দিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত তিনি রাজপথে থাকবেন এবং হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না। তিনি সকল স্তরের মানুষকে দলমতনির্বিশেষে এই বিচার আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তিনি জেলা শহরগুলোতে অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন।