আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। প্রথাগতভাবে বড় বড় ব্যবসায়ী বা দলীয় ফান্ড থেকে টাকা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সরাসরি জনগণের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। সোমবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন এবং মাত্র সাত ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে তিনি তহবিলের সর্বশেষ অবস্থা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সমর্থনে ইতোমধ্যে ১২ লাখ টাকা সংগৃহীত হয়েছে, যা তার লক্ষ্যমাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এই উদ্যোগটি কেবল অর্থ সংগ্রহের জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা।
ডা. জারা তার বক্তব্যে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রায় সকল প্রার্থীর সংসদে যাওয়ার যাত্রাটাই শুরু হয় আইন ভাঙা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে। কমিশনের কাছে ব্যয়ের ভুল তথ্য দিয়ে যারা রাজনীতি শুরু করেন, তারা পরবর্তীতে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত থাকেন। এই দুষ্টচক্র ভাঙার জন্য তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আইনে অনুমোদিত ব্যয়ের বাইরে তিনি অতিরিক্ত একটি টাকাও খরচ করবেন না। যদিও অনেকে এই স্বল্প বাজেটে নির্বাচন করাকে অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু জারা মনে করেন 'নতুন বাংলাদেশ' গড়তে হলে এই কঠিন পথই বেছে নিতে হবে।
সংগৃহীত তহবিলের ব্যবহার নিয়ে জারার পরিকল্পনা অত্যন্ত সুবিন্যস্ত। তিনি তার নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকাকেই চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ধরেছেন। বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে লিমিট সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলেও মানুষ এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাকে সাহায্য পাঠাচ্ছেন। জারা তার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জনগণের সম্পৃক্ততায় নির্বাচন করা সম্ভব হলে রাজনীতি সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত হবে। তার নির্বাচনী লড়াইয়ের এই নতুন দর্শন শিক্ষিত ও সচেতন সমাজকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
সামাজিকভাবে এই উদ্যোগটির গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণ ভোটাররা যখন কোনো প্রার্থীর তহবিলে অবদান রাখেন, তখন প্রার্থীর ওপর জনগণের সরাসরি মালিকানা ও জবাবদিহিতা তৈরি হয়। ডা. তাসনিম জারা যদি এই পদ্ধতিতে সফল হন, তবে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি প্রমাণ করবে যে, সৎ হওয়ার সাহস থাকলে এবং জনগণের ওপর আস্থা রাখলে কোটি কোটি টাকার কালো বিনিয়োগ ছাড়াই নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব। এই আন্দোলনের সফল সমাপ্তি আগামী দিনের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে এবং সাধারণ জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।