গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং একজন রাজনৈতিক নেতার নৃশংস মৃত্যু সাধারণ মানুষের মনে গভীর ভীতির সঞ্চার করেছে। জাসাস নেতা ফরিদ সরকার খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটিত না হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন। ভোররাতে জনমানবহীন ইটভাটায় কেন এবং কাদের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। প্রবাস জীবন কাটিয়ে আসার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ফরিদ সরকার এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন, যা এই ঘটনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিহতের পিতা জামাল উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেছেন যে, তার ছেলেকে সড়ক দুর্ঘটনার মিথ্যা খবর দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এটি খুনিদের একটি কৌশল হতে পারে যাতে প্রমাণ নষ্ট করা যায়। ইটভাটার শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে পুলিশ তাদের বয়ান রেকর্ড করছে। ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, একাধিক ব্যক্তি এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে এই ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে পুলিশ সকল দিক বিবেচনা করেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন রাজনৈতিক কর্মীর এমন মৃত্যু প্রশাসনিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শ্রীপুর থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।