আইন ও আদালত

পল্টনে হাদি হত্যাকাণ্ড: ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন ও নতুন গ্রেফতারের নেপথ্য

পল্টনে হাদি হত্যাকাণ্ড: ১২৭ কোটি টাকার লেনদেন ও নতুন গ্রেফতারের নেপথ্য

রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান গনি হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখন ভিন্ন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ অর্থের অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে ডিবি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ আসা এবং যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। এই অর্থের উৎস এবং হাদি হত্যার পেছনে কোনো আর্থিক মদত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আদালত ফয়সালের সকল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মাঠ পর্যায়ের তদন্তে বড় সাফল্য পেয়েছে আদাবর থানা পুলিশ। তারা হাদি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের অন্যতম সহযোগী হিমনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় হিমনের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়। পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, হিমন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় পরিষ্কার হবে।

পুরানা পল্টনের সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। ঘটনার দিন চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সুপরিকল্পিতভাবে হাদির মাথায় গুলি করা হয়েছিল। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ ও ডিবি মাসুদের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করলেও মূল হোতা মাসুদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দের ফলে মাসুদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং তার পালানোর পথ বন্ধ করা সহজ হবে। হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক এই সংযোগ এখন দেশজুড়ে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।