অন্যান্য

জ্বালানি সিদ্ধান্তে সন্দ্যায় থমকে যাচ্ছে নগরজীবন

জ্বালানি সিদ্ধান্তে সন্দ্যায় থমকে যাচ্ছে নগরজীবন



ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীসহ সারা দেশের বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করা শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নগরজীবনে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। দিনের আলো ফুরানোর আগেই থমকে যাচ্ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। এতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রত্যাশা করলেও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল, নিউমার্কেট, মিরপুর ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ বড় বড় মার্কেটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘড়ির কাঁটা ৬টা ছুঁতেই একযোগে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে শাটার। দোকানিরা দ্রুত হিসাব মিলিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, নিরাপত্তাকর্মীরা ক্রেতাদের বের করে দিচ্ছেন বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু দৃঢ়ভাবে। তবে ফার্মগেট ও মিরপুর এলাকার কিছু মাঝারি মানের মার্কেট রাত ৮টা পর্যন্তও খোলা থাকার খবর পাওয়া গেছে।
তবে অনেকেই নতুন এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত না থাকায় সন্ধ্যার পর শপিংয়ে এসে পড়ছেন বিড়ম্বনায়। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে এসে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ছুটির দিনে কিংবা অফিস শেষে শপিং করার সুযোগটাই যেন বন্ধ হয়ে গেল।’
প্রথম দিনেই কড়াকড়ি: স্থবির বিনোদন ও কেনাকাটা
শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট ও গাউছিয়ায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু সন্ধ্যা নামার আগেই নিরাপত্তারক্ষীদের বাঁশির আওয়াজে সতর্ক করা হয় ক্রেতাদের। ৬টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই অভিজাত শপিংমলগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পান্থপথ এলাকার বসুন্ধরা শপিংমলে দেখা যায়, ছয় বছর বয়সি সন্তানকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সুমন আহম্মেদ। কিন্তু প্রবেশদ্বারেই থামিয়ে দেওয়া হলে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। সুমন আহম্মেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘বেসরকারি চাকরিতে সারাদিন সময় পাই না। শুক্রবারের ভরসায় ছিলাম। জানতাম না যে ঠিক ৬টাতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এখন বাচ্চাকে কী বুঝিয়ে বাসায় ফিরব বুঝতে পারছি না।’
একই চিত্র দেখা গেছে যমুনা ফিউচার পার্কেও। সেখানে ফুড কোর্টে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখা কয়েক ডজন পরিবার ভেতরে ঢুকতে না পেরে গেটের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন, ছুটির দিনে অন্তত সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা উচিত ছিল।
বিপাকে ব্যবসায়ীরা
মার্কেট বন্ধের এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। নিউমার্কেটের একজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের বেচাকেনা শুরুই হয় সন্ধ্যায়। সারাদিন মানুষ ঘোরে, দেখে, কিন্তু কেনে সন্ধ্যার পর। ৬টায় বন্ধ করা মানে আমাদের জন্য কঠিন বাস্তবতা।’ ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা তারা বুঝলেও শপিংমলের জন্য সময়টা অন্তত রাত ৮টা পর্যন্ত করা হলে ক্ষতি কিছুটা কম হতো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ও নিরাপত্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সন্ধ্যার পর এ অন্ধকারাচ্ছন্ন মার্কেট এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে। নেটিজেনদের মতে, মার্কেট দ্রুত বন্ধ হওয়ায় সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা কমে যাবে, এতে ছিনতাই বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাড়তে পারে। আবার অনেকে এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বিলাসিতা কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।

কেউ কেউ মন্তব্য করেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর চিরচেনা আলোকোজ্জ্বল মোড়গুলো আজ (শুক্রবার) অনেকটা ম্লান। তবে এ ত্যাগের বিনিময়ে জাতীয় গ্রিডে কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রথম দিনের বিভ্রান্তি কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে মানুষ এ নতুন সময়ের সঙ্গে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।