জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে চার সন্তানের জনক ফারুক হোসেনকে (৪২) গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ খবর পেয়ে ১৬ ঘণ্টা পর পৌরসভার বাউসি এলাকার বেলাল হোসেনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে।
সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি গ্রামের শেরআলীর ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানায়, গতকাল বুধবার রাতে গৃহবধূর ডাকে ফারুক হোসেন তার শয়নকক্ষে যান। এরপর কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় রাকিব হোসেন, আকাশ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, আল আমিন, রনি মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ফারুক হোসেনকে ধরে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন।
সেখানে তার ওপর তারা সবাই মিলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালান।
অভিযোগ উঠেছে, তাকে লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তাকে মানসিকভাবেও হেনস্তা করা হয়। এরপর ঘরের বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে দুই হাত বেধে বেধড়ক গণধোলাই দিয়ে ১৬ ঘণ্টা আটকিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ খবর পেয়ে ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন অভিযোগ করে জানান, গরমের কারণে তিনি বাড়ির পাশে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ছিলেন। সে সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাকে ধরে বাড়ির মধ্যে নিয়ে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর টাকা দাবি করলে তিনি অস্বীকার জানালে গাছ ও বারান্দায় গ্রিলের সঙ্গে ১৬ ঘণ্টা বেঁধে রেখে মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেনে বলেন, পরকীয়া করতে এসে তিনি জনগণের কাছে ধরা পড়েন। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে সেটা জানি না।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফারুক হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।