নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত একটি মামলায় তার নাম আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে প্রায় ১০ মাস পর, তার পদত্যাগের পর। ঘটনাটি সামনে আসার পর সংবিধানের বিধান ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পরিকল্পিত অনিয়ম, প্রতারণা ও যোগসাজশের মাধ্যমে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে প্রায় ২৫১ কোটি টাকার ব্যাংক শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়।
বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ নির্ধারিত সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আদালত আগামী ১১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার নথিতে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে মো. শাহাবুদ্দিন নামে একজনের উল্লেখ রয়েছে, যিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন বলে বলা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালে জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই পদ ছাড়েন।
তবে মামলার এজাহারে উল্লেখিত নাম, বাবার নামের বানান এবং ঠিকানার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত তথ্যের কিছু অমিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যদিও মামলার বাদী দাবি করেছেন, আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তি সাবেক রাষ্ট্রপতিই।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে মামলার বাদী বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় মো. সাহাবুদ্দিনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না। তাই রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কীভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হলো, তা নিয়ে আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালীন ফৌজদারি মামলা করা যায় না। বিষয়টি কীভাবে আদালতে এসেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। অপরদিকে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি নিয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তদন্ত শুরু করা সম্ভব নয় এবং বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সীমিত পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।