ছবি: ইন্টারনেট
এআই, এজেন্টিক ইন্টারনেট, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখোমুখি বিশ্বের প্রযুক্তি নেতৃত্ব; বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, উদ্ভাবক হওয়ার
মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী, বিশেষ প্রতিবেদন:
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ওয়েব সামিট ২০২৬’। চার দিনের এই সম্মেলন চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। লিসবনের মেও অ্যারেনায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা একত্র হবেন।
এবারের ওয়েব সামিটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ‘নতুন প্রযুক্তি কী আসছে’—তা নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, এর অর্থনৈতিক সুফল কে পাবে, মানুষের চাকরি ও দক্ষতার ভবিষ্যৎ কী হবে এবং রাষ্ট্রগুলো কীভাবে AI-নির্ভর বিশ্বে নিজেদের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে—এসব প্রশ্নও সামনে আসছে।
আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি বলছে, ২০২৬ সালের সম্মেলনে AI, agentic systems, open-source বনাম proprietary AI, AI infrastructure, cybersecurity, fintech, venture capital, energy, climate technology, marketing, corporate innovation ও ভবিষ্যতের কর্মজগতসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
এআইয়ের পরবর্তী যুগের সন্ধিক্ষণে বিশ্ব
২০২৬ সালের AI Summit-এর অন্যতম মূল আলোচনার বিষয় হচ্ছে AI-এর পরবর্তী ধাপ। আয়োজকদের ভাষায়, বিশ্ব এখন reasoning, agentic systems এবং open-source AI-এর এক নতুন প্রতিযোগিতার পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
‘Open vs closed’, ‘The agentic era’, ‘The ROI of AI’ এবং ‘Accelerate or hold back?’—এ ধরনের আলোচনার মধ্য দিয়ে AI প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক হবে।
অর্থাৎ আগামী দিনের AI শুধু মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেবে না; বরং বিভিন্ন কাজ নিজে পরিকল্পনা ও সম্পাদন করতে সক্ষম ‘AI agent’-এর ব্যবহার বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রশাসন ও গণমাধ্যম—প্রায় প্রতিটি খাতেই কাজের ধরন বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কারা থাকছেন এবারের আসরে
ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ওয়েব সামিটের প্রকাশিত বক্তাদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন You.com-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড সোচার, ইউরোপীয় কমিশনের Executive Vice-President Henna Virkkunen, Cloudflare-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও CEO Matthew Prince, Manus AI-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা Tao Zhang, Lovable-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও CTO Fabian Hedin, Amazon-এর AGI Lab-এর Cognitive Science Director Danielle Perszyk, Replit-এর AI প্রধান Michele Catasta, Tencent-এর EMEA Chief Investment and Strategy Officer Ling Ge এবং CrowdStrike-এর CEO George Kurtz।
চীনের প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতি নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব থাকছে। প্রকাশিত বক্তাদের তালিকায় Soochow University-এর অধ্যাপক Victor Gao-এর নাম রয়েছে।
তবে সব দেশের সরকারি প্রতিনিধি বা অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সম্মেলনের আগে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ২০২৬ সালের ‘কোন কোন দেশ সরকারিভাবে অংশ নিচ্ছে’—এমন চূড়ান্ত তালিকা এখনই প্রকাশ করা সমীচীন নয়।
বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?
এই প্রশ্নটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ—অন্য দেশের তৈরি AI ব্যবহার করা, অথবা নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী AI তৈরি, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়া।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় AI Policy 2026–2030 প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর খসড়ার লক্ষ্য হিসেবে দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদ্ভাবনভিত্তিক AI কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে National Artificial Intelligence Policy 2026–2030-এর Draft V2.0 প্রকাশ করে জনমত নেওয়া হয়েছে এবং এখন প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে।
নীতিমালা প্রণয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা এবং AI governance বিশেষজ্ঞদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ফলে লিসবনের ওয়েব সামিট বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং দেশের AI নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করার একটি সুযোগ।
বাংলাদেশের মূল প্রশ্ন—আমরা কি শুধু প্রযুক্তির বাজার হব?
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশাল, তরুণ জনগোষ্ঠী বড় এবং ডিজিটাল সেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে AI-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার জন্য বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনাময়।
কিন্তু শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ প্রযুক্তির ভোক্তা পর্যায়েই থেকে যেতে পারে।
এ কারণে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা হওয়া উচিত—বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের বাস্তবতার জন্য AI তৈরি করা।
বাংলা ভাষার AI, বাংলাদেশের কৃষির জন্য AI, তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় AI, দুর্যোগ পূর্বাভাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভূমি ও বিচারব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি এবং সরকারি সেবায় AI—এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজস্ব উদ্ভাবনের জায়গা তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণাতেও বাংলাদেশের আইনগত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার জন্য বাংলাদেশি আইনভিত্তিক ছোট ও দক্ষ AI মডেল তৈরির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নিজস্ব আইন ও বাংলা ভাষার বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে AI তৈরির কাজ ইতোমধ্যে গবেষণার পর্যায়ে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
বাংলাদেশের AI Policy প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি ও একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের কাজের দিকটি দেখলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়—AI governance, দক্ষ জনবল, গবেষণা, অবকাঠামো, উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল AI ব্যবহারের সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের বড় অগ্রাধিকার।
AI Policy জাতীয় উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্যও হচ্ছে এমন একটি AI ecosystem তৈরি করা, যা দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম।
এখানেই ওয়েব সামিট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে।
কারণ ইউরোপীয় কমিশনের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রবিষয়ক শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিও এবারের ওয়েব সামিটে থাকছেন। অর্থাৎ প্রযুক্তি এখন কেবল ব্যবসার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও যুক্ত।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দাবি—AI-এর নিয়ম তৈরিতে অংশীদারিত্ব
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাম্প্রতিক AI governance আলোচনার কারণে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো বলেছে, AI-এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী বা অন্যদের তৈরি মানদণ্ডের অনুসারী হিসেবে রাখা যাবে না। বাংলাদেশও এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান AI governance-কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন—কে প্রযুক্তি তৈরি করছে, কে লাভবান হচ্ছে, ক্ষতির দায় কে নেবে এবং জবাবদিহি কার থাকবে।
এই অবস্থান লিসবনের ওয়েব সামিটের আলোচনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
কারণ AI-এর ভবিষ্যৎ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে, তাহলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সীমিত সুযোগ পেতে হতে পারে।
সুতরাং বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত—AI-এর বাজারে শুধু ক্রেতা নয়, AI নীতিনির্ধারণ ও উদ্ভাবনের আলোচনায় অংশীদার হওয়া।
বাংলাদেশের জন্য ওয়েব সামিটে পাঁচটি বড় শিক্ষা
প্রথমত, নিজস্ব AI দক্ষতা তৈরি করা। শুধু বিদেশি AI সফটওয়্যার ব্যবহার নয়; বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে AI research-এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষার AI। বাংলা speech recognition, বাংলা legal AI, শিক্ষা সহায়ক AI এবং সরকারি সেবার বাংলা AI বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
তৃতীয়ত, AI ও কর্মসংস্থান। পোশাকশিল্প, ব্যাংকিং, পরিবহন, কৃষি, ফ্রিল্যান্সিং ও প্রশাসনে AI কীভাবে মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে—এ বিষয়ে জাতীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন।
চতুর্থত, AI governance। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, algorithmic bias, deepfake, cybercrime এবং AI-এর ভুল সিদ্ধান্তের দায় নির্ধারণে কার্যকর আইন ও নীতিমালা দরকার।
পঞ্চমত, স্টার্টআপ ও বিনিয়োগ। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
শুধু সফটওয়্যার নয়, অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ
AI-এর যুগে শুধু ভালো programmer থাকলেই হবে না। প্রয়োজন data centre, cloud infrastructure, high-speed connectivity, cybersecurity এবং computing capacity।
ওয়েব সামিটের AI Summit-এ ‘AI sovereignty starts with infrastructure’ ধরনের আলোচনাই দেখিয়ে দেয় যে AI-এর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোর গুরুত্ব কতটা বেড়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো—দেশে AI ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব computing capacity, data governance এবং নিরাপদ digital infrastructure নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চিন্তা করতে হবে।
বাংলাদেশের তরুণরাই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে তরুণ জনগোষ্ঠী।
যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে AI, machine learning, cybersecurity, robotics, data science এবং AI governance-এ দক্ষতা তৈরি করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ শুধু outsourcing বা freelancing-এর বাজারে আটকে না থেকে AI-based product ও service export করতে পারে।
ওয়েব সামিটের Venture Summit-এ ২০২৬ সালের স্টার্টআপকে কীভাবে বিনিয়োগযোগ্য করে তোলা যায় এবং বৈশ্বিক venture capital-এর ভূরাজনীতি কীভাবে বদলাচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় থাকছে।
বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোর জন্য এই জায়গাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নও সামনে
AI যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—মানুষের জায়গা কোথায়?
চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, deepfake, ভুল তথ্য, শিশুদের ওপর প্রযুক্তির প্রভাব এবং AI-এর সিদ্ধান্তে বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এখন আর ভবিষ্যতের গল্প নয়।
এ কারণে বাংলাদেশের প্রযুক্তি নীতিতেও একটি ভারসাম্য প্রয়োজন—উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত না করে নিরাপত্তা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের AI Policy-এর ঘোষিত লক্ষ্যেও responsible, inclusive ও innovation-driven AI ecosystem-এর কথা বলা হয়েছে।
লিসবনের মঞ্চে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বার্তা কী হতে পারে?
২০২৬ সালের ওয়েব সামিট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে—বিশ্বের প্রযুক্তি নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার।
বাংলাদেশ বলতে পারে—
আমরা AI-এর বিরোধী নই; বরং AI-কে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।
আমরা বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ করব, কিন্তু একই সঙ্গে নিজেদের ভাষা, আইন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করতে চাই।
আমরা চাই AI উন্নয়নশীল দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে উৎপাদনশীলতা বাড়াক।
আমরা চাই AI governance তৈরির সময় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামতও গুরুত্ব পাক।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশ প্রযুক্তির ভবিষ্যতের দর্শক নয়; ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নির্মাণের অংশীদার হতে চায়।
সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ
৯ থেকে ১২ নভেম্বর লিসবনে বসতে যাওয়া ওয়েব সামিট ২০২৬ তাই শুধু প্রযুক্তি কোম্পানি ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা নয়। এটি আগামী দশকের প্রযুক্তি অর্থনীতি কোন পথে যাবে, AI কে নিয়ন্ত্রণ করবে, নতুন কর্মসংস্থান কোথায় তৈরি হবে এবং রাষ্ট্রগুলো প্রযুক্তিগতভাবে কতটা স্বাধীন থাকবে—এসব প্রশ্নেরও আন্তর্জাতিক মঞ্চ।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত একটাই—ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে AI-ভিত্তিক বাংলাদেশে যাওয়ার সময় এসেছে।
তবে সেই যাত্রায় শুধু প্রযুক্তি আমদানি করলে চলবে না। প্রয়োজন নিজস্ব গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ, বাংলা ভাষার প্রযুক্তি, নিরাপদ অবকাঠামো, শক্তিশালী নীতিমালা, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং বিশ্ব প্রযুক্তি-নীতির আলোচনায় বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি।
লিসবনের মেও অ্যারেনায় যখন বিশ্বের প্রযুক্তি নেতৃত্ব AI-এর পরবর্তী অধ্যায় লিখতে বসবে, তখন বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন থাকবে—আমরা কি সেই অধ্যায়ের পাঠক থাকব, নাকি নিজেরাও একটি অধ্যায় লিখব?