গৌরীপুর প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দুইটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না হওয়ায় সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে ৯৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শ্রমিক তালিকা দাখিলে বিলম্ব, প্রকল্প এলাকায় পানি থাকা, জমি সংক্রান্ত জটিলতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার বোকাইনগর ও সিধলা ইউনিয়নের দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ২২৭ টাকা। এর মধ্যে সিধলা ইউনিয়নের বলার বিল খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ওয়েজ খাত থেকে ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং বোকাইনগর ইউনিয়নের মইজগা-চাকুরিয়া ও ঢালিয়া বিল খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ননওয়েজ খাত থেকে ৪২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ফেরত যাচ্ছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা। তিনি জানান, প্রকল্প এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রকল্প এলাকায় পানি জমে থাকা এবং শ্রমিকদের তালিকা দাখিলে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা কম থাকায় খালের ড্রেসিং ও স্লোপিং সঠিকভাবে করা যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিধলা ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বলার বিল খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ওয়েজ খাতে ৭৬ লাখ ১০ হাজার ৮২৭ টাকা এবং ননওয়েজ খাতে ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হলে খালটির গড় গভীরতা ২ মিটার, দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৯০০ মিটার, উপরিভাগ ৬ দশমিক ৫ মিটার এবং তলদেশ ২ দশমিক ৫ মিটার হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, বোকাইনগর ইউনিয়নের মইজগা বিল থেকে চাকুরিয়া বিল হয়ে ঢালিয়া বিল পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ওয়েজ খাতে ৪০ লাখ ৬০ হাজার ৩০০ টাকা এবং ননওয়েজ খাতে ৫১ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টাকাসহ মোট ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে খালের গড় গভীরতা ২ মিটার, দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৯৩৬ মিটার, উপরিভাগ ৭ দশমিক ৫ মিটার এবং তলদেশ ৩ দশমিক ৫ মিটার হওয়ার কথা ছিল।
দুটি খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন।