গজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গী, জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, চান্দ্রা ও আশেপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস এখন শুধু রাত্রিযাপনের জায়গা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো অসামাজিক কার্যকলাপ, দেহব্যবসা ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ অনুযায়ী এসব হোটেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে। এটি তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজীপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-যুবসমাজ ও তরুণ-তরুণীদের একাংশের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। টঙ্গী, জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী ও চান্দ্রা এলাকায় বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। বাসা-বাড়ি এবং নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অবৈধ আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউসে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধ বাড়ছে। আবাসিক এলাকার বাসা-বাড়ি ও ফ্ল্যাটে সাইনবোর্ডবিহীন ছোট ছোট ঘরে অননুমোদিত হোটেল খুলে রমরমা অসদুপায় ও দেহব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
অনেক আবাসিক হোটেল পর্যাপ্ত পরিচয়পত্র যাচাই না করে বা নিয়ম অমান্য করে রুম ভাড়া দিয়ে থাকে। ঘণ্টাভিত্তিক রুম ভাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানা গেছে। সন্তানরা ক্লাসের সময়ে বা ক্লাসের বাইরে কোথায় যাচ্ছে সে বিষয়ে অনেক সময় পরিবারের নজরদারি থাকে না। ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের কারণে তরুণ-তরুণীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের আবাসিক হোটেলে রুম দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় তাঁরা বড় ধরনের অপরাধ বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়। এতে পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী কয়েকটি নির্দিষ্ট হোটেল এসব কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল রাজমহল আবাসিক টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড, হোটেল মধুমতি আবাসিক টঙ্গী বাজার, হোটেল চ্যানেল আবাসিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড টঙ্গী, আল মদিনা আবাসিক হোটেল জয়দেবপুর-চৌরাস্তা রোড যার মালিক মো. কফিল উদ্দিন, হোটেল ই-ভ্যালি আবাসিক চান্দনা চৌরাস্তা, হোটেল ইকো প্যালেস আবাসিক চৌরাস্তা, হোটেল হ্যাভেন আবাসিক কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড যার মালিক রাসেল ও তাঁর স্ত্রী রেশমা, হোটেল নিউ সানরাইজ আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক তাপস ও শহিদুল ইসলাম, হোটেল রেইনবো আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক ইয়াসিন গাজী, হোটেল মুন আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক স্বপন এবং রোজ ভ্যালি আবাসিক হোটেল কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড। এসব হোটেলে নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী কয়েকটি নির্দিষ্ট হোটেল এসব কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল রাজমহল আবাসিক টঙ্গী বাসস্ট্যান্ড, হোটেল মধুমতি আবাসিক টঙ্গী বাজার, হোটেল চ্যানেল আবাসিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড টঙ্গী, আল মদিনা আবাসিক হোটেল জয়দেবপুর-চৌরাস্তা রোড যার মালিক মো. কফিল উদ্দিন, হোটেল ই-ভ্যালি আবাসিক চান্দনা চৌরাস্তা, হোটেল ইকো প্যালেস আবাসিক চৌরাস্তা, হোটেল হ্যাভেন আবাসিক কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড যার মালিক রাসেল ও তাঁর স্ত্রী রেশমা, হোটেল নিউ সানরাইজ আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক তাপস ও শহিদুল ইসলাম, হোটেল রেইনবো আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক ইয়াসিন গাজী, হোটেল মুন আবাসিক কোনাবাড়ী যার মালিক স্বপন এবং রোজ ভ্যালি আবাসিক হোটেল কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড। এসব হোটেলে নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু হোটেল মালিক পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যায়। অভিযান শুধু চোখের আড়াল হিসেবে পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। চেকিং বা অভিযানের ভয় দেখিয়ে হোটেল মালিকদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে। এতে অপরাধচক্র ও বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম দেওয়া এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা কম দেখা যায়।
গাজীপুরে আবাসিক হোটেলকেন্দ্রিক এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালেও পনেরোটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও প্রায় প্রতি মাসেই একাধিক অভিযানের খবর পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাব রয়েছে। এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সাধারণ বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। নিয়ম ভঙ্গকারী হোটেলগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গীদের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। আবাসিক হোটেল সিলগালা বা তালাবদ্ধ করা এবং মালিকপক্ষকে কঠোর আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্কুল-কলেজের তরুণ-তরুণীদেরসহ যুবসমাজের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। গাজীপুরের শান্ত পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে যাতে এই অবক্ষয় রোধ করা যায় এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।