বিনোদন

জুলাই স্মরণে জামায়াতের ছবি প্রদর্শনী

জুলাই স্মরণে জামায়াতের ছবি প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির মধ্যে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে এ-সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে একসঙ্গে তুলে ধরে নির্দিষ্ট কোনো ছবি প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট গত ২৫ জুন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ওপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানানো হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই রাজধানীতে জুলাই বিপ্লবের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর ক্যারাভান চালু করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। সকালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্থানে মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী চালানোর পরিকল্পনা ছিল।

জামায়াতের এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, আন্দোলনের দাবি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছে। ছবি, প্রামাণ্যচিত্র ও অন্যান্য দৃশ্যমান উপকরণের মাধ্যমে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস উপস্থাপনের উদ্যোগটি দলীয় প্রচার ও স্মরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এর পর পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ব্যাপক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। সরকারি ও বিভিন্ন গবেষণামূলক নথিতে ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তিন সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য এক নয়। ১৯৪৭ ছিল উপমহাদেশের রাষ্ট্রীয় বিভাজনের বছর, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বছর এবং ২০২৪ ছিল দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার বড় পরিবর্তনের বছর। ফলে কোনো প্রদর্শনীতে তিন সময়কে একই ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করা হলে প্রতিটি ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, চরিত্র ও পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে ছবি, ভিডিও, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত স্মারক ও অন্যান্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ডিজিটাল আর্কাইভেও আন্দোলনের আলোকচিত্র, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, দেয়াললিখন, স্লোগান ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ রয়েছে।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের আয়োজিত প্রদর্শনীতে ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস, ছবির সময় ও স্থান এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে থেকে যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হলে দর্শকরা ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।