আইন ও আদালত

কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে পরিচিত মুখ তাপস চন্দ্র

কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে পরিচিত মুখ তাপস চন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। দীর্ঘ সংগ্রাম, পারিবারিক শোক, শিক্ষাজীবনের নানা ধাপ এবং গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আইন পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পাওয়ার পর কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দিয়ে শুরু করেন তাঁর আনুষ্ঠানিক আইনজীবী জীবন। বর্তমানে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

১৯৮০ সালের ৫ এপ্রিল পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার ও মাতা যোগমায়া সরকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তাপস চন্দ্র সরকার। তাঁর পৈতৃক বসতবাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী এলাকায়। জন্মের পর থেকেই তাঁর জীবন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। শিশুকালেই মাতৃবিয়োগের শিকার হন তিনি। যে বয়সে একটি শিশুর জীবনে মায়ের স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসার প্রয়োজন, সেই বয়সেই মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হতে হয় তাঁকে। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে ধীরে ধীরে দৃঢ়চেতা ও সংগ্রামী করে তোলে।

জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা বাধা এলেও তিনি থেমে যাননি। বরং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার। তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির একজন সিনিয়র সদস্য ছিলেন। বাবার কর্মজীবন, আইন অঙ্গনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাপস চন্দ্র সরকারের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। বাবার কাছ থেকেই আইন অঙ্গনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং আইন পেশার প্রতি আগ্রহের সূচনা হয়।

তবে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার আগে গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তাপস চন্দ্র সরকার। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। তাঁদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা, প্রত্যাশা ও বঞ্চনার কথা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। সংবাদপত্রের পাতায় মানুষের কথা তুলে ধরার দায়িত্বও পালন করেন।

গণমাধ্যমে কাজের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী পেশাজীবনেও ভূমিকা রাখে। সংবাদকর্মী হিসেবে মানুষের কথা শোনা ও বাস্তবতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ যেমন তিনি পেয়েছেন, তেমনি আইন পেশায় এসে মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কাজ করার সুযোগ পান। তাঁর কর্মজীবনের এই দুই অধ্যায়ের মধ্যে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাজীবনেও ধাপে ধাপে এগিয়েছেন তাপস চন্দ্র সরকার। ১৯৯৫ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৯৭ সালে কুমিল্লা অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০০০ সালে নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নেন।

দীর্ঘ শিক্ষা ও প্রস্তুতির পর ২০১৬ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদপ্রাপ্ত হন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। একই বছরের ৯ জুন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তাঁর আইনজীবী জীবনের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। আদালত অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নিষ্ঠার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।

তবে তাঁর জীবনের পথচলায় বাবাকে হারানোর বেদনাও রয়েছে। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তাঁর পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার মৃত্যুবরণ করেন। আইন পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে যিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং জীবনের কঠিন সময়ে সাহস দিয়েছেন, সেই বাবাকে হারানোর ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। বাবার স্মৃতি, আদর্শ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে ধারণ করেই তিনি নিজের কর্মজীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাবার দেখানো পথ তাঁর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। দীর্ঘদিন কুমিল্লায় বসবাসের কারণে এ শহরের মানুষের সঙ্গে তাঁর সামাজিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেন। আইনজীবী হিসেবে পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সম্পৃক্ততাও তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

শৈশবে মাকে হারানো, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে হারানো, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়া এবং গণমাধ্যম থেকে আইন পেশায় আসা—তাপস চন্দ্র সরকারের জীবনপথে এসব অভিজ্ঞতা রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে মানুষের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবে মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

বর্তমানে কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার একটি পরিচিত মুখ। তাঁর এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের শ্রম, অধ্যবসায়, পারিবারিক অনুপ্রেরণা, শিক্ষাজীবনের প্রস্তুতি, গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তাঁর জীবনপথে শৈশবের বেদনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে পেশাগত ও সামাজিক জীবনে নিজের অবস্থান তৈরি করার প্রচেষ্টাও।

গণমাধ্যমের কর্মী থেকে আদালতের আইনজীবী—তাপস চন্দ্র সরকারের দীর্ঘ কর্মযাত্রায় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসে তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তাঁর জীবনকাহিনিতে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে।