বিনোদন

নতুন সিনেমার গানে শুভশ্রীর গলার দাগ ঘিরে নেটপাড়ায় বিতর্ক ও কৌতুহল

নতুন সিনেমার গানে শুভশ্রীর গলার দাগ ঘিরে নেটপাড়ায় বিতর্ক ও কৌতুহল

আগামী ১৬ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেব ও শুভশ্রী অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র দেশু৭। ছবিটির প্রচারণা শুরুর পর থেকেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার সর্বশেষ সংযোজন সিনেমাটির চতুর্থ গান আমার সবকিছুতেই। জিৎ গাঙ্গুলির কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গানের দৃশ্যায়নে লাদাখের মনোরম লোকেশনে দেব ও শুভশ্রীকে রোমান্টিক আবহে দেখা গেছে। তবে গানটির ৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি বিশেষ দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। ভিডিওর ওই অংশে শুভশ্রীর গলার কাছে একটি লালচে দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা মুহূর্তের মধ্যেই নেটপাড়ায় লাভ বাইট হিসেবে আখ্যায়িত হতে শুরু করে। গানটির লিরিক্সে আদরের দাগ নিয়ে যে পঙক্তি রয়েছে, তার সাথে দৃশ্যটির এমন মিল দর্শকদের কৌতূহলকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দৃশ্যটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা মুনির নানা মত তৈরি হয়েছে। একটি বড় অংশের দর্শক এটিকে নিছক চিত্রনাট্যের অংশ বা অভিনয়ের প্রয়োজনে মেকআপের কারসাজি হিসেবে দেখছেন। তবে অনেকের মতে, গানের কথার সাথে সংগতি রেখে দৃশ্যটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবেই বিতর্ক বা আলোচনার জন্ম দেওয়ার কৌশল। ভুক্তভোগী বা সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, সিনেমার প্রচারণার জন্য শিল্পীরা প্রায়ই এ ধরণের বিতর্কিত কৌশলের আশ্রয় নেন। বিশেষ করে দেব ও শুভশ্রীর দীর্ঘদিনের রসায়ন এবং অতীতে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ দর্শকদের মনে এই ধরনের দৃশ্য নিয়ে আরও বেশি আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। আগরতলায় প্রচারণার সময় দেবের শুভশ্রীকে চুমু খাওয়ার ঘটনাটি এই আলোচনার তীব্রতাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক চলচ্চিত্র বিশ্লেষক।

এই বিতর্কিত দৃশ্যটি নিয়ে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বা অভিনয়শিল্পীদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গানটির অন্য কোনো দৃশ্যে ওই দাগের অস্তিত্ব না থাকায় এটি স্পষ্ট যে, বিষয়টি কেবল ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তের গল্পের সাথে সম্পর্কিত। এদিকে, প্রচারণার অংশ হিসেবে দেব ও শুভশ্রী আগরতলা, শ্রীরামপুর ও শিলিগুড়িসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেশু ট্যুর চালিয়ে যাচ্ছেন। ভক্তদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের বিতর্কিত আলোচনা সিনেমাটির বাণিজ্যিক সফলতায় প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক সময় নেতিবাচক প্রচারণাও সিনেমার টিআরপি বা দর্শক আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা এই ক্ষেত্রেও সত্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিশেষে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সিনেমার প্রচারণায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাদের রোমান্টিক দৃশ্যগুলো অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। শুভশ্রীর গলার এই দৃশ্যটি নিছক ক্যামেরার কারসাজি নাকি পরিকল্পিত কোনো প্রচারণা কৌশল, তা বড় বিষয় নয়; বরং এর মাধ্যমে যে সাধারণ মানুষের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা অনস্বীকার্য। সিনেমার মুক্তির তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ধরনের খুটিনাটি বিষয়গুলোই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে। তবে এ ধরনের বিতর্কিত আলোচনা শিল্পীদের পেশাদারিত্বের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সিনেমার গ্রহণযোগ্যতায় কতটুকু ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।