আইন ও আদালত

কেবল ভিন্নমতের কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল: অ্যাটর্নি জেনারেল

কেবল ভিন্নমতের কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল: অ্যাটর্নি জেনারেল

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মামলার বর্তমান অবস্থা ও আপিল শুনানি আবরার হত্যা মামলার বর্তমান আইনি অবস্থা তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলাটির দ্রুত শুনানি অনেকটা আসামিপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। তবে উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সাজা বহাল রাখার জন্য সর্বাত্মক আইনি চেষ্টা চালাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখনো তা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রভাব এর আগে মামলার রায়ে হাইকোর্টও পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন যে, কেবল ভিন্নমতের কারণেই আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। নিজেদের বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী দাবি করা আসামিরা এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না।

আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমত দমনের এক ভয়াবহত চিত্র সামনে আসে। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এর জেরে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর এখন মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।