বিনোদন

কিংবদন্তির অনুপ্রেরণায় নতুন গানে লুইপার সংগীতযাত্রা

কিংবদন্তির অনুপ্রেরণায় নতুন গানে লুইপার সংগীতযাত্রা

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জিনিয়া জাফরীন লুইপা বর্তমানে তার নিজস্ব ব্যান্ড দল লুইপা এন উইংস নিয়ে দুই মাসের এক দীর্ঘ সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সংগীতের এই বৈচিত্র্যময় পথচলায় লুইপা তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার আসন্ন জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামী ১৭ নভেম্বর রুনা লায়লার জন্মদিনকে ঘিরে ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে একটি বিশেষ গান শ্রোতাদের উপহার দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। লুইপার সংগীতজীবনের শুরু থেকেই রুনা লায়লার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, যা তার সৃজনশীল কাজে এক গভীর ছাপ ফেলে। লুইপা জানান, বর্তমানে তার হাতে বেশ কয়েকটি নতুন গান থাকলেও তিনি রুনা লায়লার জন্মদিনের জন্য বিশেষ কোনো একটি গান প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। গত বছর একই দিনে প্রকাশিত তার ‘চুড়ি ছাম ছাম’ গানটি শ্রোতাকুলের মাঝে যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তার বর্তমান লক্ষ্য।

লুইপার সংগীতযাত্রায় ব্যক্তিগত আবেগ ও স্মৃতির মিশেল অত্যন্ত স্পষ্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত তার ‘প্রজাপতি’ গানটি মূলত তার নিজের মেয়ের শৈশবকে ক্যামেরায় বন্দি করার একটি শৈল্পিক প্রচেষ্টা। গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা এবং দৃপ্তের সংগীতায়োজনে এই গানটি লুইপার মাতৃত্বের অনুভূতির একটি প্রতিচ্ছবি। লুইপা মনে করেন, সময়ের বিবর্তনে সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত যেন হারিয়ে না যায়, সে কারণেই গানটির মাধ্যমে তিনি সেই বিশেষ সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তার এই প্রতিটি কাজের পেছনে সুরের মান এবং ভিডিওর নান্দনিক উপস্থাপনার দিকে তিনি বিশেষ নজর দিয়ে থাকেন। ‘চুড়ি ছাম ছাম’ গানে রুকাইয়া জাহান চমকের উপস্থিতি গানটির গ্রহণযোগ্যতাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, লুইপা তার পরবর্তী কাজগুলোতেও সেই মানদণ্ড বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তার এই সংগীতযাত্রায় স্বামী ও যন্ত্রশিল্পী আলমগীর হোসেনের ভূমিকা অনস্বীকার্য, যিনি ‘লুইপা এন উইংস’-এর সংগীত আয়োজনের দায়িত্ব পালন করছেন।

মঞ্চে পরিবেশনার ক্ষেত্রে লুইপা সবসময় বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেন, যার ফলে তার ব্যান্ড দলের সাথে কনসার্টগুলোতে তিনি একইসাথে লোকগান, নতুন মৌলিক গান এবং পুরোনো জনপ্রিয় ধ্রুপদী গানের সংমিশ্রণ ঘটান। তিনি মনে করেন, পৃষ্ঠপোষকতা বা স্পন্সরশিপ যেকোনো ভালো সংগীত প্রযোজনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অতীতে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, একটি ভালো গান তৈরির পেছনে সংগীত আয়োজন ও ভিডিও নির্মাণের যে বিশাল ব্যয়ভার, তা সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়া প্লেব্যাক এবং নজরুলসংগীতের প্রতি তার আজন্ম আগ্রহ রয়েছে। ছোটবেলায় জাতীয় পর্যায়ে নজরুলসংগীতের জন্য স্বর্ণপদক বিজয়ী লুইপা ভবিষ্যতে নজরুলের গান নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। অভিনয়ে অতীতে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে সংগীতেই মনোযোগ নিবদ্ধ রেখেছেন এবং মিউজিক ভিডিওর প্রয়োজন ছাড়া অভিনয়ের দিকে তার কোনো আগ্রহ নেই।

লুইপার এই ধারাবাহিক সংগীত চর্চা এবং কিংবদন্তি শিল্পীদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান সময়ের অন্যান্য শিল্পীদের চেয়ে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত লুইপা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশে ফেরার পর তার নতুন গানগুলো নিয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার এই সংগীতযাত্রা কেবল নতুন গান প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নজরুলসংগীতের চর্চা এবং প্লেব্যাকে নিয়মিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলা সংগীতের মূল ধারায় নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে চান। লুইপার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং সংগীতের প্রতি তার নিবেদন বাংলা সংগীতের আধুনিক ধারায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।