রাজনীতি

শিকড়ের টানে জাইমা: আইন পেশার অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা

শিকড়ের টানে জাইমা: আইন পেশার অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা

জাইমা রহমান, যিনি দীর্ঘ সময় লন্ডনে আইন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন, তার দেশে ফেরার প্রাক্কালে প্রকাশ করেছেন এক ভিন্নধর্মী জীবনদর্শনের কথা। তার ভাষ্যমতে, লন্ডনের যান্ত্রিক ও বাস্তববাদী জীবন তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিলেও তার মন পড়ে ছিল বাংলাদেশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও আইন পেশায় মানুষের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সেটিই তাকে বেশি সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অবহেলার শিকার এবং ন্যায়বিচার বঞ্চিত, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে নেতৃত্বের নতুন দিশা দিয়েছে।

জাইমা তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার দাদাকে (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) কখনো দেখেননি, কিন্তু তার সততা ও দেশপ্রেমের গল্প শুনে বড় হয়েছেন। সেই একই আদর্শ তার বাবা তারেক রহমান এবং দাদি খালেদা জিয়া বহন করছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছাই তার আগামীর পথচলার মূল শক্তি। তিনি মনে করেন, জনগণের যে প্রত্যাশা জিয়া পরিবারকে নিয়ে রয়েছে, তা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেই দায়ভার নিতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত।

তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল পারিবারিক মিলন নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা। তিনি চান বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে, সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে এবং দেশকে পুনরায় স্বমহিমায় গর্জে উঠতে দেখতে। জাইমা রহমানের এই চিন্তাশীল ও গোছানো বার্তাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

ভিডিও স্ক্রিপ্ট (হুবহু): জাইমা আরও লিখেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই। তিনি লিখেন, আমি আমার দাদাকে কখনো দেখিনি। কিন্তু তার সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। দাদু আর আব্বু সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তাদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি। অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক যোগ করেন জাইমা। আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে। সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি যোগ করেন তিনি।