অনলাইন ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ও গ্রেপ্তার ফিলিপ সাংমা।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ ওঠা ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, হাদি হত্যার অভিযোগে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে ফয়সাল মাসুদ করিম ও আলমগীর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ফয়সালদের জেরা করে উঠে এসেছে ফিলিপ সাংমার নাম। তিনি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে থাকতেন। হাদি-খুনে নাম জড়ানোর পরই ফয়সাল এবং আলমগীর যোগাযোগ করেন ফিলিপের সঙ্গে। তার সাহায্যেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে ঢুকে পড়েন ফয়সাল ও আলমগীর।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার ভোরে শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফিলিপ সাংমাকে। জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের হালুয়াঘাট ও মেঘালয়ের ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকেদের পারাপার করান। একইভাবে তার সাহায্যে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন ফয়সালরাও।
হাদি-খুনে অভিযুক্তদের খোঁজে যখন বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হয়, তখন ফিলিপও হালুয়াঘাট-ডালুপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে আসেন। জেরায় ফিলিপ সাংমা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দিন ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। বারবার বদলেছেন আস্তানাও। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে আবার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ফিলিপ। একই পরিকল্পনা ছিল ফয়সালদেরও। তবে তার আগেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তিন জনেই। আজই ফিলিপ সাংমাকে আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছরের হাদিকে গুলি করে খুন করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ওই তরুণ নেতার। হাদির মৃত্যু ঘিরে অশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। হাদি-খুনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।