জাতীয়

সরকারি জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণ: রূপায়ণ গ্রুপের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সরকারি জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণ: রূপায়ণ গ্রুপের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সরকারি জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে ১০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উত্তরা এলাকায় একটি সরকারি জমির ওপর ২০ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের ভিত্তিতে রূপায়ণ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে এবং গ্রাহকদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত সরকারি মালিকানাধীন হওয়া সত্ত্বেও তা বেসরকারি আবাসন প্রকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিদ্যমান আইন নীতিমালার পরিপন্থী। সুযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম কিস্তিতে অর্থ গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি ১০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্থাটি ইতোমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৪৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ভবনের নকশা অনুমোদন (প্ল্যান পাস) দিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তদন্তে অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জমির মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি দেশের আবাসন খাতে বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।