ইশরাকের আহ্বান—দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল হতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএব) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কাকরাইলের আইইবি ভবন মিলনায়তনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন- এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রধান সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিইএবের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিইএব ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ। সঞ্চালনা করেন ডিইএব ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও ডিইএব কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এইচ এম আমিনুর রহমান আমিন।
দায়িত্বশীল রাজনীতির ওপর গুরুত্ব ইশরাকের
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। দলের নেতাকর্মীদের জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করাই রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তুলির
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দলের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে ছিলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আরও বেশি জনসম্পৃক্ত হতে হবে।
তুলি আরও বলেন, মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয়। তাই নেতাকর্মীদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরেন বক্তারা
আলোচনা সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়; এটি দলের রাজনৈতিক আদর্শ, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি সুযোগ।
বক্তারা দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় পেশাজীবী সমাজের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডিইএবের নেতারা বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।
জাতীয়