অন্যান্য

দফাদার ,চৌকিদোর বানাতেও ইউপি চেয়ারম্যান ঘুষআদায়!

দফাদার ,চৌকিদোর  বানাতেও ইউপি চেয়ারম্যান ঘুষআদায়!


অনলাইন ডেস্ক

ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম টাকা গুনছে। ছবি: ভাইরাল ভিডিও থেকে নেওয়া
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৯ নম্বর ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমের টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে আয়েশি ভঙ্গিতে টাকার বান্ডিল নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। এতে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, নিজের বাসভবনে খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে আছেন চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। তার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি টাকার বান্ডিল নিয়ে বসে আছেন। একপর্যায়ে টাকা গ্রহণের সময় তিনি নিয়োগ বোর্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বিষয়টি তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করছেন না। কথোপকথনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি'র) নাম উল্লেখ করে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দেন বলেও ভিডিওতে শোনা যায়।’ এমনকি ইউএনও কার্যালয়ের এক পিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চারজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিপরীতে প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও মোট লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও বাস্তবে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তারই প্রমাণ। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিয়োগ বোর্ডের অন্য সদস্যরা এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে একটি সভায় ছিলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ভিডিওটি যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপজেলাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।