হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন: অনিয়ম, মাদক ও
ছিনতাই নিয়ে প্রশ্নে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিবেদক:
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। ২৭ জুন শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে গত সাত দিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় রাজউক চেয়ারম্যান হাতিরঝিলে ডাস্টবিন ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে হাতিরঝিলকে আরও নান্দনিক ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপণ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অতিরিক্ত আনসার মোতায়েনের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে দৈনিক প্রভাতী খবর-এর পক্ষ থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের কাছে হাতিরঝিলের আউটসোর্সিং কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, রাতের বেলায় মাদকের আসর, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
দৈনিক প্রভাতী খবর-এর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে যে আলম অ্যান্ড কোং-এর কর্ণধার শাহ আলম তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রভাবশালী নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার আস্থাভাজন হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাতিরঝিলের আউটসোর্সিং কার্যক্রমের কাজ পেয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পরও সেই প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত আউটসোর্সিং টেন্ডারেও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি কার্যাদেশ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া দৈনিক প্রভাতী খবর-এর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আলম অ্যান্ড কোং এবং আল আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ না দিয়ে কিংবা শ্রমিক কম নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য দৈনিক প্রভাতী খবর-এর কাছে রয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর দৈনিক প্রভাতী খবর-কে বলেন, "বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাত গভীর হলে হাতিরঝিল এলাকায় বিভিন্ন স্থানে মাদকের আসর বসা, অধিকাংশ ল্যাম্পপোস্ট ও সেতুতে আলো না থাকায় ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, রাজউকের পক্ষ থেকে হাতিরঝিলের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটিকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আরও উন্নত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানানো হয়।