এনামুল হক শাহীনের পুনর্মুদ্রিত উপন্যাসের পাঠ-প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু রচনা আছে যা তার কালের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে যা প্রকাশের মুহূর্তে ছিল বিপজ্জনক, কিন্তু সময়ের আবর্তে হয়ে ওঠে অপরিহার্য দলিল। তরুণ লেখক এনামুল হক শাহীনের উপন্যাস 'সময় অসময়' ঠিক সেই বিরল শ্রেণির সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
২০১৩ সালে প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছিল এক ভয়ংকর রাজনৈতিক দমবন্ধ পরিবেশে, যখন সত্য উচ্চারণ ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার নামান্তর। রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচার, গুম-খুনের সংস্কৃতি, মেধার বিপরীতে তোষামোদের রাজত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে নির্মম চিত্র লেখক তুলে ধরেছিলেন, তা ছিল সে সময়ের সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে এক দুঃসাহসী পদক্ষেপ।
লেখক কেবল কাল্পনিক আখ্যান রচনা করেননি। তিনি সমাজের অন্তর্গত বাস্তবতাকে চলমান ভাষা দিয়েছেন। চামচামির সংস্কৃতি, যোগ্যতাহীনদের ক্ষমতাসীন হওয়ার অভিশাপ, কোটাব্যবস্থার আড়ালে মেধা ছিনতাই এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের যে নির্লজ্জ ক্লান্তিকর ইতিহাস, সবকিছুই উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক হয়রানি,মামলা-হামলা এমনকি বিশেষ বাহিনী কতৃক অপহরণের কারণে বইটির বিপণন একসময় বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। কিন্তু সত্যিকারের সাহিত্য কখনো ধুলোর নিচে চাপা পড়ে না। সময়ের উদীয়মান সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান - কলি প্রকাশনীর বিশেষ উদ্যোগে 'সময় অসময়' পুনর্মুদ্রিত হয়ে নতুনভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছাতে চলেছে।
একজন লেখক যখন জেল-জরিমানা-মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে কলম ধরেন, তখন সেই লেখা নিছক উপন্যাস থাকে না। হয়ে ওঠে প্রজন্মের বিবেকের দর্পণ। এনামুল হক শাহীনের 'সময় অসময়' সেই দর্পণেরই নাম।
পাঠকদের প্রতি আহ্বান, এই বইটি পড়ুন, সময়কে স্পর্শ করার আনন্দ উপভোগ করুন। কিছু বই কেবল বিনোদনের জন্য লিখা হয় না। বরং সময়কে চিনে নেওয়ার জন্যও রচিত হয়।
আরিফুর রহমান এমদাদ
ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকা সেন্ট্রাল ছাত্রদল