বৃষ্টিতে জুমায় যেতে না পারলে কী করবেন?
ধর্ম ডেস্ক

ফাইল ছবি।
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। এ দিনকে মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা ফরজ। তবে বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা ঝড়ের কারণে অনেক সময় মসজিদে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জুমার জামাতে অংশ নিতে না পারলে ইসলামের বিধান কী এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়।
জুমার দিনের গুরুত্ব তুলে ধরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,‘যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়েছে, তার মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এ দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং জুমার দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত দিন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)
তাই সাধারণ অবস্থায় জুমার নামাজ আদায়ে আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং জামাতে অংশ নেওয়ার প্রতি ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা মানুষের ওপর অসহনীয় কষ্ট চাপিয়ে দেয় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তিনি তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না।’(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না।’ (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় হাদিসেও। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এক বৃষ্টির দিনে তার মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দেন, আজানে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলার পরিবর্তে ‘সাল্লু ফি বুয়ুতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করো) ঘোষণা করতে। উপস্থিত লোকজন এতে বিস্মিত হলে তিনি বলেন, তার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন পরিস্থিতিতে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জুমা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু মানুষকে কাদা ও দুর্ভোগের মধ্যে ফেলতে তিনি চান না। (সহিহ বুখারি: ৮৫৫; সহিহ মুসলিম)
ইসলামী ফিকহবিদদের মতে, প্রবল বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা, রাস্তা অচল হয়ে যাওয়া কিংবা এমন পরিস্থিতি, যেখানে বাইরে বের হলে জানমাল বা স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এসব ক্ষেত্রে জুমার জামাতে উপস্থিত না হওয়ার শরয়ি ওজর রয়েছে।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বৈধ ওজরের কারণে কেউ জুমার জামাতে অংশ নিতে না পারলে তার ওপর চার রাকাত ফরজ জোহরের নামাজ আদায় করা আবশ্যক। ঘরে একা জুমার দুই রাকাত নামাজ আদায় করার বিধান নেই।
এ সময় ঘরে থেকেই নির্ধারিত সময়ে জোহরের নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-ইস্তিগফার, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দোয়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা একজন মুসলিমের করণীয়।
আলেমদের ভাষ্য, ইসলাম সবসময় ভারসাম্য ও সহজতার শিক্ষা দেয়। তাই প্রবল বৃষ্টি বা দুর্যোগে নিজের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে শরিয়তের দেওয়া এই রুখসত (ছাড়) গ্রহণ করা বৈধ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।