সারাদেশ

সাংবাদিকের ভাই গ্রেপ্তার, পরিবারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

সাংবাদিকের ভাই গ্রেপ্তার, পরিবারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিকের ভাই আলিউজ্জামান দুলাল (৪৫) নামে এক রাজমিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ওয়াবদার হাট এলাকা থেকে আলিউজ্জামান দুলালকে গ্রেপ্তার করে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আলিউজ্জামান দুলাল উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত মইজউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি কামরুল হাসানের ছোট ভাই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটালীপাড়া উপজেলার ওয়াবদার হাট এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে মহাসড়কে গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার এসআই উত্তম কুমার সেন বাদী হয়ে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আলিউজ্জামান দুলালকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, “আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করেছি।”

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আলিউজ্জামান দুলালের পরিবারের দাবি, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আলিউজ্জামান দুলালের ভাই সাংবাদিক কামরুল হাসান বলেন, “আমার ভাই একজন রাজমিস্ত্রী। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক নন। ঘটনার দিন তিনি ওয়াবদার হাট বাজারে সড়কের পাশে একটি দোকানে রাজমিস্ত্রীর কাজ করছিলেন। ঘটনার দুই বছর পর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা হতবাক হয়েছি। অথচ এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। আমরা আলিউজ্জামান দুলালের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”