ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতা মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করা, হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ফসলি জমিতে যেতে বাধা, চাঁদা দাবি এবং হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান সজীব।
লিখিত বক্তব্যে মাহাবুব হাসান সজীব অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং তাঁর অনুসারীদের নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন পালিয়ে থাকলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মান্নান মাতুব্বর এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, ফসলি জমিতে যেতে বাধা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, জয়পাশা গ্রামের নাজিম হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও গবাদিপশু লুটের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া এবং মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এসব ঘটনার কারণে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার গত পাঁচ মাস ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির পাট কাটতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। মাছের ঘের থেকে মাছ লুট এবং বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগও করা হয়। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান বক্তারা।
পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্কাস মোল্যা বলেন, ১৭ বছর বয়স থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি সরকারের আমলেও মান্নান মাতুব্বরের লোকজন তাঁর বাড়ি থেকে গবাদিপশু লুট করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন।
পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকমল শেখ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায় সাত মাস বাড়িছাড়া। মান্নান মাতুব্বর তাঁর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এখনও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকুব্বর মাতুব্বর বলেন, মান্নান মাতুব্বরের প্রভাবের কারণে তিনি নিজ বাড়িতে যেতে পারছেন না। এমনকি নিজের জমির পাট কাটতেও বাধার মুখে পড়ছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, জয়পাশা গ্রামের তাঁর ভাতিজা সৈয়দ নাজিম আলী হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করায় তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মান্নান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।