সারাদেশ

পূর্ব জয়পুর বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ

পূর্ব জয়পুর বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কার্যক্রমে গড়িমসির কারণে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহল।

জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ‘পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: শিক্ষার মান, নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাহিদ মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরও তিনি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করে সংক্ষিপ্ত কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের পক্ষে অনুকূল প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম, সহকারী শিক্ষিকা বাহার বেগম ও সহকারী শিক্ষিকা ডলি বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা এবং শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরা খুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।