সারাদেশ

সরিষাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় নারীসহ সাবেক পুলিশ সদস্য আটক

সরিষাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় নারীসহ সাবেক পুলিশ সদস্য আটক

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুই সন্তানের জননী এক নারীর সঙ্গে গোপনে ভাড়া বাসায় বসবাসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার বাউসি উত্তরপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একসঙ্গে আটক করা হলেও পরে সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ সদস্য।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাউসি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে কয়েক দিন আগে একটি কক্ষ ভাড়া নেন অভিযুক্ত আফছার আলী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে নারীর পরিবারের সদস্যরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাতে ওই ভাড়া বাসায় যান।

স্থানীয়দের দাবি, সেখানে গিয়ে তারা ওই নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একই কক্ষে অবস্থানরত দেখতে পান। এ সময় দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান আফছার আলী। তবে ওই নারীকে পরিবারের সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত আফছার আলী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের মহিষাবাদুরিয়া গ্রামের খলিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই তিনি ওই নারীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; এতে প্রতারণা বা অন্য কোনো আইনগত বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আফছার আলীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।