সারাদেশ

১৮ বছরের দখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধ

১৮ বছরের দখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৈধভাবে ক্রয় করা ২ দশমিক ৬৩ একর জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে চলমান বিরোধের ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রবাসী ডেবিট কর্মকার। তাঁর দাবি, একই বিক্রেতা নুরুল আলমের কাছ থেকে তিন ধাপে জমি ক্রয় করে গত প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

ডেবিট কর্মকার জানান, ১৯৭৯-৮০ সনের ৩৬২৯ নম্বর বন্দোবস্তি মোকদ্দমার মাধ্যমে নুরুল আলমের নামে আর/১১২৯ হোল্ডিংভুক্ত ৫ একর জমি বন্দোবস্ত হয়। ওই হোল্ডিং থেকেই তিনি ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর ৮৫ শতক, ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ৫৮ শতক এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর বায়নানামার মাধ্যমে আরও ১২০ শতক জমি ক্রয় করেন। সব মিলিয়ে তাঁর ক্রয়কৃত জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ দশমিক ৬৩ একর। জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বড় ভাই মৃদুল কর্মকার ওই জমিতে বসবাস করছেন। সেখানে আম, কাঁঠাল, জাম, গর্জনসহ বিভিন্ন বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বড় গাছে পরিণত হয়েছে।

গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে উভয় পক্ষ বিচার-মীমাংসার জন্য অ-বিচারিক স্ট্যাম্পে জমা প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১ আগস্ট) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে জমি পরিমাপ করা হয়।

পরিমাপ শেষে উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্যমতে, ডেবিট কর্মকারের ক্রয়কৃত ২ দশমিক ৬৩ একর জমির মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৪০ একর জমি তাঁর দখলে রয়েছে। তবে বাকি প্রায় ২৩ শতক জমির অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে ডেবিট কর্মকার বলেন, “আমি আমার পাওনা ২৩ শতক জমি এখনও পাইনি। তারপরও বর্তমানে যে জমি আমার দখলে রয়েছে, তা নিয়ে আমি কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করছি না। বরং এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি আমার বিরোধী পক্ষকে উসকানি দিয়ে অযথা বিরোধ সৃষ্টি করতে বাধ্য করছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রবাসে থাকার সুযোগে বিরোধী পক্ষ তাঁর জমির সীমানা পিলার অপসারণ, রাস্তার পাশের মাটির দেয়ালের ঘর ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডেবিট কর্মকারের ভাষ্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় তিনি পরিকল্পিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাঁর দাবি করা বৈধ সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

এলাকার কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দার দাবি, ডেবিট কর্মকার প্রকৃত মালিক নুরুল আলমের কাছ থেকেই নিয়ম অনুযায়ী জমি ক্রয় করেছেন। স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, “ডেবিট কর্মকারের ক্রয়কৃত জমি সম্পর্কে আমি অবগত। তিনি যথাযথভাবে জমি কিনেছেন।” এছাড়া জমি বিক্রির সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, নুরুল আলম নিজেই তাঁদের সামনে জমির সীমানা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস সরেজমিন তদন্ত করেছে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারিত হবে।