ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর দাগনভূঞায় জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, এক প্রবাসীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দাগনভূঞা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নুর পেয়ারা শিল্পী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুর পেয়ারা শিল্পী জানান, তাঁর জ্যাঠাতো ভাই ইমাম হোসেন ও মীর হোসেন এবং জ্যাঠা আবদুর রেজ্জাকের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩০ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দাগনভূঞা উপজেলার ৪ নম্বর রামনগর ইউনিয়নের সেকান্দরপুর গ্রামে তাঁদের বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গাছপালা কাটার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
নুর পেয়ারা শিল্পীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে এবং তাঁর ভাগনি সানজিদা ইয়াসমিনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ সময় মীর হোসেন তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই ঘটনায় তাঁর ভাগনি সানজিদা ইয়াসমিনের একটি চোখে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে দাবি করা হয়।
পরে তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নুর পেয়ারা শিল্পী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় দাগনভূঞা থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা, তাঁর পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার কামনা করেছে।