সারাদেশ

আদালতের নির্দেশে নবজাতকের ঠিকানা সেফ হোম

আদালতের নির্দেশে নবজাতকের ঠিকানা সেফ হোম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোলজুড়ে আসা নবজাতক কন্যাশিশুকে আদালতের নির্দেশে ঢাকার একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শিশুটির নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন শর্তসাপেক্ষে এক মাসের জন্য টাঙ্গাইলের এক নিঃসন্তান দম্পতির জিম্মায় শিশুটিকে দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছ থেকে নিয়ে সেফ হোমে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (৩ আগস্ট) নবজাতককে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকায় এ মুহূর্তে প্রশাসনের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় নগরকান্দার ফুলসূতী বাজার এলাকায় ওই নারী একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মা ও নবজাতককে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নবজাতকের বাবার পরিচয় জানা যায়নি।

পরে শিশুটির নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় গত ২৯ জুলাই টাঙ্গাইলের এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে এক মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এরপর নবজাতককে পুনরুদ্ধারের জন্য নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ফরিদপুর আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শিশুটিকে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আদালতের নির্দেশের খবর পেয়ে সোমবার শিশুটিকে এক মাসের জন্য জিম্মায় পাওয়া দম্পতি নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তাঁরা শিশুটিকে নিজেদের কাছে রাখার আকুতি জানান। কয়েক দিনের মধ্যে শিশুটির প্রতি তাঁদের গভীর মায়া তৈরি হওয়ায় বিদায়ের সময় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার শিশুটিকে ঢাকার সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকায় এ মুহূর্তে প্রশাসনের এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ওই দম্পতিকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।