সারাদেশ

বাগেরহাটে সবুজ নারকেলে বাড়ছে লাভ

বাগেরহাটে সবুজ নারকেলে বাড়ছে লাভ

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটে নারকেল চাষে কচি সবুজ নারকেল বা ডাব বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। পরিপক্ব নারকেলের তুলনায় ডাবের সরাসরি ভোক্তা চাহিদা থাকায় গাছ থেকে ফল নামানোর পর দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমিয়ে কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাগেরহাট দীর্ঘদিন ধরেই নারকেল উৎপাদনের জন্য পরিচিত। জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই নারকেল গাছ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পুরোনো তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ৩ হাজার ৬১৯ হেক্টর জমিতে নারকেলের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার ৯৩৬ মেট্রিক টন। নারকেলকে ঘিরে স্থানীয় বাজার ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পও গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাজারে ডাবের চাহিদা থাকায় অনেক কৃষক ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা বিক্রি করছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে পানীয় হিসেবে ডাবের চাহিদা বাড়লে উৎপাদনকারী থেকে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে পৌঁছে যায় সবুজ নারকেল। ফলে দীর্ঘ সময় গাছে রেখে শুকনো নারকেল তৈরির পরিবর্তে আগাম বাজারজাত করে নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় নারকেলের সাপ্তাহিক হাটও রয়েছে। এসব বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নারকেল পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। ফলে কৃষকের উৎপাদিত ফল স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তজেলা বাজারেও পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে।

তবে নারকেল চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলে নারকেল গাছে হোয়াইট ফ্লাই বা সাদা মাছির আক্রমণের কারণে ফলন কমার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রভাবে নারকেলভিত্তিক শিল্পেও কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ ও পোকার আক্রমণ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, সুষম সার প্রয়োগ, গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং উপযুক্ত সময়ে ফল সংগ্রহ করা জরুরি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও টেকসই ও লাভজনক কৃষি উৎপাদনকে তাদের সেবার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।

চলতি সময়ে বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৮০০ কৃষককে নারকেল গাছের চারাসহ সার ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়ার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন করে নারকেল গাছের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, ভালো ফলন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা গেলে সবুজ নারকেল চাষ থেকে নিয়মিত আয় বাড়ানো সম্ভব। তবে লাভের পরিমাণ নির্ভর করে গাছের ফলন, পরিচর্যার খরচ, মৌসুমি চাহিদা, বাজারদর ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর। তাই কৃষকের প্রকৃত লাভ নিশ্চিত করতে উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৃষি সহায়তা প্রয়োজন।