লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যায় একটি সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হলে পানির প্রবল স্রোতে সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে এবং কয়েক হাজার পরিবার যোগাযোগ সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানির স্রোত ও চাপের কারণে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির অংশবিশেষ ভেঙে যায়। ফলে দহগ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষ, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চলাচলে বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানির কারণে অনেক স্থানে স্বাভাবিক যান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুলাই বাসস জানায়, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে জুন ও জুলাইয়েও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে আবারও পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের চলাচল ও জরুরি সেবায় সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।