মোঃ আব্দুর রব মনসুর, কাজিপুর
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় চলতি বছরে প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আখের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে আখ চাষ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এ ফসলের আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কাজিপুরে ফিলিপাইনের উন্নত জাতের ব্ল্যাক সুগার কেইন, স্থানীয় জাত এবং ঈশ্বরদী অঞ্চলের অনুমোদিত জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে ওংফ ১৬, ওংফ ৪৫, ওংফ ৪৬, ওংফ ৪৭ ও রং বিলাস। উৎপাদিত আখের বড় অংশ স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরির পাশাপাশি চুষে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।
কৃষকদের মতে, আখ শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, কাজিপুরের হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। আখ কাটার মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গুড়ের ভাটা চালু হয়। এসব ভাটায় শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে আখের উৎপাদন কমে গেলে শুধু কৃষকরাই নয়, গুড় উৎপাদক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
নাটুয়ারপাড়ার আখচাষি রবিউল জানান, এবার তিনি চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। চাষের শুরুতে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো ছিল। পরে কিছু গাছে মিলিবাগের আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত জাতের আখ চাষ, আধুনিক পরিচর্যা এবং রোগ-পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মিলিবাগে আক্রান্ত জমিগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।