সারাদেশ

খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে আদিবাসী দিবস পালিত

খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে আদিবাসী দিবস পালিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, মাতৃভাষায় শিক্ষা, ভূমির অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের য়ংড বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর টাউন হল ও শান্তিনগর মোড় হয়ে শাপলা চত্বরের মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

পরে মুক্তমঞ্চে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দি কন্সার্ন স্পেনস ও জাপানের প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্যবিজ্ঞানী নীল রঞ্জন দাস গুপ্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুম আকতার, চৌধুরী বেলাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, সহসভাপতি প্রবৃত্তি কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক চাইথোয়াই মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারী অধিকারকর্মী নমিতা চাকমা এবং কোষাধ্যক্ষ সিদ্ধেশ্বর দেওয়ানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাহাড় হচ্ছে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি অঞ্চল। নিজস্ব পোশাক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে যারা বসবাস করেন, তাঁদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও বেশি লালন করে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দিবসটি আরও ব্যাপক পরিসরে পালনের আহ্বান জানান।

এদিকে, একই দিন সকাল ১০টায় শহরের মারমা উন্নয়ন সংসদ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সুজন চাকমা ঝিমিট।

আলোচনা সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, মাতৃভাষায় শিক্ষা, ভূমির অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রীতিময় চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদুল সুমন, বাংলাদেশ জনতা সংসদের সভাপতি মাহফুজুর রহমান শামীম, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা, পানছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না তঞ্চঙ্গ্যা এবং লেখক ও গবেষক তানিম নওশাদ।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা এ অঞ্চলের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। এসব পরিবেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিবছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়।