নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, ক্রয়প্রক্রিয়া ও কাজের মান নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। কর্ণফুলী টানেল থেকে রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্প—কোথাও সরকারি অডিটে আর্থিক অনিয়মের আপত্তি, কোথাও বাস্তবায়ন নিয়ে তদন্ত, আবার কোথাও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ প্রকাশের পর সরকারি সেবায় দুর্নীতির বিস্তৃত চিত্র নতুন করে আলোচনায় আসায় বড় প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাও নজরে এসেছে। তবে টিআইবির জরিপটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অডিট নয়; এটি নাগরিকের সেবা গ্রহণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে পরিচালিত।
টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন সেবা খাতে ঘুষের আনুমানিক মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। জরিপে ১৭টি সেবা খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তথ্য সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের পরিমাণ নির্দেশ করে না; বরং সরকারি অর্থ ও সেবা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের একটি চিত্র দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের অডিট ও তদন্তের তথ্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব তথ্য এখন প্রকল্প পরিকল্পনা, ব্যয় অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের সরকারি অডিটে মোট ৬৮টি আপত্তি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত। আপত্তির মধ্যে রয়েছে যথাযথ যৌক্তিকতা ছাড়া প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্ভিস এরিয়া নির্মাণ, প্রায় ২৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগ। অডিট আপত্তি মানেই আদালতে প্রমাণিত দুর্নীতি নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব, নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের মাধ্যমেই দায় নির্ধারিত হওয়ার কথা।
প্রকল্পের আওতায় সার্ভিস এরিয়া, বাংলো, মোটেল ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ নিয়েও আইএমইডি প্রশ্ন তুলেছে। এসব স্থাপনায় প্রায় ৪৮৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টানেলের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এসব স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ও সরাসরি সম্পর্ক কতটা ছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি প্রকল্পে কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা, ব্যবহারিক প্রয়োজন, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনায় সামনে এসেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকল্পটির আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক। টানেলটি ২০২৩ সালে চালুর পর প্রত্যাশিত যানবাহন চলাচল না হওয়ায় এর পরিচালন ব্যয় ও আয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার তুলনায় যানবাহন কম চলাচলের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই কতটা বাস্তবসম্মত ছিল, সেটিও আলোচনায় এসেছে। তবে কোনো প্রকল্পের আর্থিক ক্ষতি বা প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় হওয়াকে নিজে থেকেই দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
কর্ণফুলী টানেল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলাও হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত মামলার তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নেগোসিয়েশন কমিটির নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞের সুপারিশ ছাড়াই প্রকল্পে কিছু অপ্রয়োজনীয় কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতে সরকারের প্রায় ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন; তাই অভিযোগে উল্লিখিত অর্থক্ষতি বা ব্যক্তিদের দায়কে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কর্ণফুলী টানেলের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পেও কার্যাদেশ, বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে দুদক তদন্ত করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে পরিচালিত এক অভিযানে রেল খাতের অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্পে কার্যাদেশ পাওয়া একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়িত একাধিক প্রকল্পের নথি সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে চিনকি আস্তানা-আশুগঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ, কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এবং আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ছিল।
দুদকের ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ প্রদান ও বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তের প্রয়োজনে প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। এসব প্রকল্পের সঙ্গে বড় অঙ্কের সরকারি ও বৈদেশিক অর্থ জড়িত থাকায় কার্যাদেশের প্রতিযোগিতা, দরপত্র মূল্যায়ন, কাজের পরিমাণ, বিল পরিশোধ এবং কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রেলওয়ে খাতে অনিয়মের বিষয়টি নতুন নয়। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের বিভিন্ন অডিট প্রতিবেদনে রেলওয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়েও দীর্ঘদিনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। একটি পুরোনো ইস্যুভিত্তিক অডিটে ১৩টি আপত্তিতে ১৫৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার আর্থিক সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রেলওয়ের জমির লাইসেন্স ফি আদায় না করা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায় না করা, কম হারে ফি আদায় এবং রেলভূমি অবৈধ দখলের মতো বিষয় ছিল।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারির সাংবিধানিক দায়িত্ব মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের। সংস্থাটি সরকারি আয়-ব্যয় নিরীক্ষা করে এবং ব্যয় যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত হয়েছে কি না, আর্থিক বিধি মেনে হয়েছে কি না এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া গেছে কি না, তা পর্যালোচনা করে। রেলওয়ে ও সড়ক পরিবহনসহ পরিবহন খাতের জন্য পৃথক অডিট কাঠামোও রয়েছে।
অডিট আপত্তির মূল উদ্দেশ্য শুধু অনিয়মের হিসাব তৈরি করা নয়; সরকারি অর্থের ব্যবহার সংশোধন, অনিয়মের কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করাও এর উদ্দেশ্যের অংশ। কিন্তু কোনো আপত্তি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না হলে বা আপত্তির ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ ও অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে অডিটের প্রতিরোধমূলক ভূমিকা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বড় প্রকল্পে অডিট আপত্তির পরবর্তী কার্যক্রমও প্রকল্প বাস্তবায়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
কর্ণফুলী টানেলের ক্ষেত্রে অডিট আপত্তি, আইএমইডির মূল্যায়ন এবং দুদকের মামলা তিনটি আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। অডিট আর্থিক বিধি ও ব্যয়ের নিয়মিততা যাচাই করে, আইএমইডি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এবং দুদক দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। তিন প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ একত্রে দেখলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সম্পর্কে একটি বিস্তৃত চিত্র পাওয়া যেতে পারে; তবে প্রতিটি প্রক্রিয়ার আইনগত অবস্থান আলাদা।
বড় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্রয়প্রক্রিয়া। সরকারি প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ ব্যয় হয় নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি, পরামর্শক সেবা ও অন্যান্য ক্রয়ের মাধ্যমে। দরপত্রের শর্ত, প্রাক্কলিত মূল্য, দরদাতার যোগ্যতা, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাণ পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত বিল—এসব পর্যায়ে দুর্বলতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে। বর্তমানে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ২০২৫ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালাও কার্যকর রয়েছে।
টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫-এর ফলাফল এই জায়গায় একটি বৃহত্তর বার্তা দেয়। জরিপে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে এবং ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। যদিও এসব তথ্য বড় প্রকল্পের অডিট আপত্তির সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়, তবু সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা যে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, তা বোঝা যায়।
উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ব্যাপক। একটি প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলে সেই অর্থ অন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় না। কাজের মান দুর্বল হলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে। প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বেড়ে গেলে জনগণের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে তা শুধু সরকারি হিসাবের একটি সংখ্যা নয়; জনগণের কর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
তবে অডিট আপত্তি বা তদন্তাধীন অভিযোগকে রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও অন্য পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া, নথি যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একইভাবে যেসব অডিট আপত্তির ব্যাখ্যা বা নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোও প্রতিবেদনে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এতে দুর্নীতিবিরোধী সংবাদ যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনি নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে।
এখন প্রয়োজন বড় প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জবাবদিহির একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের অগ্রগতি, বিল পরিশোধ, পরিবর্তিত কাজের অনুমোদন এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সম্পদের ব্যবহার—প্রতিটি ধাপে তথ্য প্রকাশ ও স্বাধীন নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্ণফুলী টানেল ও রেল প্রকল্প ঘিরে সাম্প্রতিক অডিট আপত্তি, তদন্ত ও মামলার তথ্য তাই শুধু কয়েকটি প্রকল্পের হিসাবের প্রশ্ন নয়। এগুলো বড় উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা, ব্যয়, ক্রয় ও বাস্তবায়নের মান নিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সামনে একটি বড় পরীক্ষা। টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ যেখানে সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতায় দুর্নীতির বিস্তার দেখিয়েছে, সেখানে বড় প্রকল্পের অডিট ও তদন্ত দেখাচ্ছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে জবাবদিহি শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু কত কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হলো, কত টাকা ব্যয় হলো কিংবা কত বড় অবকাঠামো নির্মিত হলো—তা দিয়ে মাপা যায় না। প্রকল্পটি কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, নির্ধারিত অর্থে কতটা কাজ হয়েছে, কাজের মান কেমন, জনগণ কী সুফল পাচ্ছে এবং সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকা নিয়ম মেনে ব্যয় হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অডিট আপত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক নিষ্পত্তিই পারে বড় প্রকল্পের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে।