নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অভিযোগ এখন আর বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা শত শত ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ, গত এক যুগে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার সরকারি শ্বেতপত্রের হিসাব এবং সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট অর্থের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও বিদেশে চলে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বড় প্রকল্পে ঘুষ, কমিশন, ব্যাংক ঋণ অনিয়ম ও বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে বিদেশে থাকা কোনো অর্থ বা সম্পদকে কেবল অবস্থানের ভিত্তিতে পাচার করা অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়; প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থের উৎস ও লেনদেনের বৈধতা তদন্তে প্রমাণিত হতে হবে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত যুক্তরাজ্যে তাঁর মালিকানাধীন ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন। দুদকের আবেদনে এসব সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডের বেশি, যা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ৪৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে সাবেক এই মন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে নয় সদস্যের একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। (TBS)
এর আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সম্পত্তি ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। বাংলাদেশেও তাঁর নামে থাকা সম্পদ নিয়ে দুদকের তদন্ত ও আদালতের আদেশ হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মূল প্রশ্ন হলো বিদেশে অর্জিত সম্পদের অর্থের উৎস কী, সেই অর্থ বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে গেছে কি না এবং ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না।
অর্থপাচারের বৃহত্তর চিত্র নিয়ে ২০২৪ সালের সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনে। শ্বেতপত্র কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহ ঘটেছে বলে অনুমান করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে ব্যাংক ঋণ অনিয়ম, বাণিজ্যে পণ্য ও সেবার মূল্য অতিরঞ্জন বা কম দেখানো এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মকে অর্থপাচারের সম্ভাব্য চ্যানেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হিসাব অনুমানভিত্তিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল; প্রতিটি ডলার যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার হয়েছে, এমন প্রমাণ হিসেবে এ পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করা যায় না। (Prothom Alo)
শ্বেতপত্রের হিসাবের গুরুত্ব এখানেই যে, অর্থপাচারকে শুধু বিদেশে টাকা পাঠানোর ঘটনা হিসেবে নয়, দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ, আমদানি-রপ্তানিতে মূল্য কারসাজি, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে অর্থ তৈরি হওয়ার পর তা বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব চ্যানেল বন্ধ করতে ব্যাংকিং, কর, কাস্টমস, কোম্পানি নিবন্ধন এবং সম্পদ ঘোষণার তথ্যের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৪১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের শেষে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশি ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অর্থের পরিমাণ ৮৩৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁয়ে পৌঁছায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৮৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। (The Daily Star)
তবে এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি অর্থপাচারের পরিমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে বাংলাদেশি ব্যাংকের বৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অর্থ এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ২০২৫ সালের বৃদ্ধির বড় অংশই বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধির কারণে হয়েছে বলে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ বাড়া উদ্বেগের বিষয় হলেও প্রতিটি অর্থের বৈধতা আলাদাভাবে যাচাই ছাড়া তাকে পাচারের অর্থ বলা যায় না। (TBS)
অর্থপাচারের তদন্তে তাই সম্পদের অবস্থানের পাশাপাশি অর্থের গতিপথ অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সম্পত্তি কোন অর্থে কেনা হয়েছে, অর্থটি কোন ব্যাংক হিসাব থেকে গেছে, কোন কোম্পানি বা ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, কর ও আয়কর বিবরণীতে তা কীভাবে দেখানো হয়েছে এবং বিদেশে সম্পদ কেনার অর্থের সঙ্গে দেশে অর্জিত আয়ের সম্পর্ক কী—এসব তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এই জায়গাতেই বড় প্রকল্পে কমিশন ও ঘুষের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে বড় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশনের অভিযোগ তদন্তে এসেছে। অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রেও উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুষ, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নথি, দরপত্র, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, উপঠিকাদার, অর্থ পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করা জরুরি।
সরকারি কর্মকর্তা বা তাঁদের পরিবারের বিদেশে বসবাস কিংবা বিদেশে সম্পদ থাকা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। বৈধ আয়, উত্তরাধিকার, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় বা অনুমোদিত উপায়ে অর্জিত অর্থে বিদেশে সম্পদ থাকা আইনসঙ্গত হতে পারে। তবে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, ঘুষ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন কি না এবং সেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করেছেন কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। এ কারণে যাচাই ছাড়া ‘নগ্ন কর্মকর্তা’ ধরনের অবমাননাকর পরিচয় ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট অভিযোগ, নথি ও তদন্তের তথ্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার জন্য অধিকতর নিরাপদ।
অর্থপাচারের তদন্তে বর্তমানে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তাও প্রয়োজন। সরকার ২০২৬ সালে ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তার কাঠামো ব্যবহার করে তথ্য ও সম্পদ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। (TBS)
তবে অর্থপাচারের অর্থ ফেরত আনা জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বিদেশে কোনো সম্পদ চিহ্নিত হলেই তা বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় চলে আসে না। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালতের আদেশ, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং অর্থের অবৈধ উৎসের প্রমাণ প্রতিষ্ঠার বিষয় জড়িত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার আবেদন, ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ এবং সম্পদের মালিকানা যাচাই করতেও দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে শুধু সম্পদ জব্দের সংখ্যা দিয়ে অর্থপাচার প্রতিরোধে সাফল্য পরিমাপ করা যায় না; শেষ পর্যন্ত কত অর্থ উদ্ধার হলো এবং ভবিষ্যতে পাচারের পথ কতটা বন্ধ করা গেল, সেটিই বড় প্রশ্ন।
অর্থপাচারের সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও গভীরভাবে যুক্ত। বড় অঙ্কের ঋণ অনিয়ম, ভুয়া কাগজপত্র, বাণিজ্যিক লেনদেনে মূল্য কারসাজি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বড় ঋণ অনুমোদন, আমদানি-রপ্তানি মূল্য যাচাই, প্রকৃত মালিকানা শনাক্তকরণ এবং সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন। শুধু বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জমা নিলেই হবে না; দেশে ও বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, কোম্পানির মালিকানা, ব্যাংক হিসাব এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের সঙ্গে ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্যও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। তবে এমন যাচাই অবশ্যই বিদ্যমান আইন, গোপনীয়তার অধিকার এবং ন্যায়বিচারের নীতির মধ্যে করতে হবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫-ও এই বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে এবং ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। এক বছরে সেবা খাতে আনুমানিক ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে টিআইবি জানিয়েছে। এই অর্থপাচারের হিসাব নয়, কিন্তু সেবা ব্যবস্থায় দুর্নীতির যে বিস্তার জরিপে উঠে এসেছে, তা অর্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে। (TIB)
বাংলাদেশের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো অর্থপাচারের উৎস বন্ধ করা এবং বিদেশে চলে যাওয়া সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধার করা। শুধু বড় বড় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, প্রকল্পে স্বচ্ছ দরপত্র, কর ও কাস্টমস ব্যবস্থায় তথ্যের সমন্বয়, প্রকৃত মালিকানা শনাক্তকরণ, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাই এবং সন্দেহজনক আন্তর্জাতিক লেনদেনের নজরদারি একসঙ্গে শক্তিশালী করতে হবে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৫১৮টি যুক্তরাজ্যের ফ্ল্যাট জব্দের আদালতের আদেশ একটি নির্দিষ্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শ্বেতপত্রের ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের হিসাব অর্থপাচারের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি বৃহৎ চিত্র দেয়। আর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট অর্থের ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি বিদেশে অর্থ ও সম্পদ রাখার প্রবণতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই তিনটি তথ্যকে একত্র করে প্রতিটি বিদেশি সম্পদ বা ব্যাংক জমাকে অবৈধ অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বরং এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন আরও শক্তিশালী তদন্ত, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে রাষ্ট্র কতটা নিরপেক্ষভাবে অর্থের উৎস অনুসরণ করতে পারে, অবৈধ সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করতে পারে এবং প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর। একই সঙ্গে বৈধ সম্পদ ও বৈধ আন্তর্জাতিক লেনদেনের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও অর্থপাচার বন্ধের লক্ষ্য তখনই কার্যকর হবে, যখন ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিক—উভয়ের ক্ষেত্রেই একই আইন, একই তদন্তের মানদণ্ড এবং একই জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।