জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের ইসলামপুরে একটি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের অর্থ স্বাক্ষর জাল করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এতিম শিশুদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের দেওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, ব্যাংক হিসাব ও স্বাক্ষর যাচাই প্রয়োজন।
ক্যাপিটেশন গ্রান্টের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোকে এতিম শিশুদের প্রতিপালন, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বেসরকারি এতিমখানার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত এতিম শিশুদের সংখ্যা বিবেচনায় এই অনুদান দেওয়া হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নথিতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬ সময়ের জন্য বেসরকারি এতিমখানার দ্বিতীয় কিস্তির ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ ও মঞ্জুরির সরকারি কার্যক্রমও হয়েছে। ফলে ইসলামপুরের সংশ্লিষ্ট এতিমখানায় কোন অর্থবছর বা কিস্তির অর্থ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তা নির্ধারণে মঞ্জুরি আদেশ, বিল, ব্যাংক হিসাব এবং অর্থ উত্তোলনের কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এতিমখানার সুপারের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নথি, এতিমখানার নিবন্ধন ও ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত শিশুর তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি শুধু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথি এবং যাঁদের দায়িত্বে অর্থ ব্যবস্থাপনা হয়েছে, তাঁদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে অভিযোগের তদন্ত ও প্রমাণ পাওয়ার আগে সুপারের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি।
এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সরকারি অনুদানের অর্থ প্রকৃতপক্ষে এতিম শিশুদের কল্যাণে ব্যয় হয়েছে কি না, অনুদানের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না এবং কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এতিম শিশুদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।