আজ থেকে ১১৪ বছর আগে—১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা এই চিঠিটির ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দুই নোবেলজয়ী মনীষীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও দর্শনচর্চা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চিঠির পটভূমি ও উপনিষদের ব্যাখ্যা
প্রকাশিত চিঠিটি কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী ‘বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন যে, তিনি সম্প্রতি রাসেলের বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ পাঠ করেছেন। প্রবন্ধটি তাঁকে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের আকর গ্রন্থ উপনিষদের একটি বিশেষ শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়।
চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রোমান হরফে মূল সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করার পাশাপাশি এর নিজস্ব ইংরেজি অনুবাদ ও মননশীল ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তাঁর ব্যাখ্যায় ফুটে ওঠে মানুষের ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ সত্তাকে অতিক্রম করে পরম অসীমের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আহ্বান। কবিগুরুর মতে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করে, তখনই সে জীবনের যাবতীয় ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে স্থায়ী মুক্তি লাভ করে।
দুই মনীষীর ঐতিহাসিক বন্ধন
ঐতিহাসিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বার্ট্রান্ড রাসেলের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই তাদের মধ্যে চিঠি ও দর্শনভিত্তিক ভাবনার আদান-প্রদান শুরু হয়।
এই ঐতিহাসিক যোগাযোগের ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের অসাধারণ ইংরেজি অনুবাদের জন্য এশিয়ার প্রথম ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অন্যদিকে ব্রিটিশ দার্শনিক ও সাহিত্যিক বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই চিঠিটিকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দার্শনিক ভাবনার মেলবন্ধনে এক অমূল্য ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।




