ডেস্ক রিপোর্ট:
জ্বালানি পরিস্থিতি একেবারে খারাপ অবস্থায় নেই: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
দেশে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা—পরিস্থিতিটা ওরকম নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে তথ্য উপদেষ্টা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের মধ্যে এই ভীতি বা সংশয় আছে যে, জ্বালানির সরবরাহ কি অনেক কমে গেছে? আমরা যে এত বড় লাইন দেখছি, এটা কি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না? প্রশ্ন এটা। যদি আমরা তুলনা করি, ২০২৫ এবং ২০২৬-এর মধ্যে।
ডিজেল ২০২৫ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন। মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই, কিন্তু সেটা খুব সিগনিফিক্যান্টলি কমে গেছে তা না। অকটেন ৩৬ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন ছিল ২০২৫-এর মার্চে। মানে, আমরা দুটো বছরের মার্চকে তুলনা করছি।
অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে ৩৭ হাজার ৪৩৯ মেট্রিক টন— এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, পেট্রোলে গত বছর মার্চে ছিল ৪৬ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন, এটা এই মার্চে হলো ৩৯ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন। এটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তার মানে, আমরা এটা বলতে চাই আমাদের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ৪৬ হাজার থেকে যখন ৩৯ হাজার হয়, ৭ হাজার কমে আসে। ৭ হাজার কমে এলে এটা ১০ পারসেন্টের খানিকটা বেশি, ১৫ পারসেন্টের মতো একটু কম সরবরাহ আছে। এটা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় খুব আনইউজুয়াল না। কিন্তু এই যে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা—পরিস্থিতিটা ওরকম না।
তিনি বলেন, অনেকেই আশঙ্কার কথা বলেছেন, অবৈধ মজুত, যেটা হচ্ছে সেটার কারণ খারাপ উদ্দেশ্য আছে। কারোর খারাপ উদ্দেশ্য আছে, সেটা হচ্ছে তারা কেউ কেউ পাচার বা বেশি মূল্যে বিক্রি করতে চান।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়ি বা বিভিন্ন স্থানে পণ্য বেশি মজুত থাকার বিষয়টি পাচারের সম্ভাবনার একটি পরিস্থিতিগত ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, অনেকেই যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তুলছেন—পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের জ্বালানির দাম কম হলে পাচারের ঝুঁকি থাকে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের শঙ্কা; ভবিষ্যতের চিন্তায় অনেকেই অতিরিক্ত কিনে মজুত করছেন। অর্থাৎ, মূলত এটি প্যানিক বায়িং ও মজুত করার প্রবণতা।
জ্বালানি তেল অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, এর মধ্যে এপ্রিলে অভিযানের সংখ্যা ৭৪টি, মামলার সংখ্যা ১১৪টি। অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এরকম আমরা প্রচুর পাচ্ছি।
তিনি বলেন, মজুতসংক্রান্ত তথ্য আপনাদের একটু দিয়ে রাখি। এপ্রিলের ৬ তারিখ পর্যন্ত সকালের মজুতে ছিল ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ মেট্রিক টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৩ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের থেকেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি জমা আছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বোঝা ছিল, যা জ্বালানিমন্ত্রীও উল্লেখ করেছিলেন। এখনো এই ভর্তুকি চালু আছে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে আরও ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণও অনেক জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আইপিপি) কাছে বকেয়া ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, আদানি পাওয়ারের কাছে ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার কাছে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা।