রাজনীতি

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তাদের (জামায়াতে ইসলামী) যে অতীত, সে ইতিহাস আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করা যায়; সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের সঙ্গে যৌথ সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। 

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা কখনোই সুস্থ চিন্তা করেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আজকে এক পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী আমির বলছেন, ‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে।’ আমি এটা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি (জামায়াত আমির) বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তার কথায় প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সব পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান, পত্রপত্রিকা, মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে-এই নির্বাচনটি কালের অর্থাৎ, বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু বিচারের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়; নিন্দা জানাচ্ছি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপরে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধুমজাল সৃষ্টি করা, আবার একটা বিভেদ সৃষ্টি করা। আমরা ৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট, সুযোগকে নষ্ট করা এবং আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পাঁয়তারা তারা (জামায়াত) করছে কিনা সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। 

মহান মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভাটিকে সফল করার জন্যে আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। 

মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে, তারা মহান মে দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করবেন, প্রত্যেকটি ইউনিটের আমাদের জেলা এবং উপজেলা ইউনিটগুলোতে একইভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাও সেইভাবে দিবসটি পালন করবেন। আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটা উৎসবের দিন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করবার দিন হিসেবে আমরা এটাকে নিতে চাই। যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরও বেগমান করতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা সবসময় লক্ষ্য করেছেন, আমরা এর আগেও বলেছি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে… সে নির্বাচনের আগে থেকেই। তখনও আপনার অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফ্যাক ইনফরমেশন, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সংসদ সদস্য এসএম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ,সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, উলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।