হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ারের (২৮) ওপর হামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতে গুরুতর অবস্থায় তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা জোড়াদহ ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সবুজ শাহরিয়ার বেলতলা গ্রামের শফি উদ্দিনের ছেলে। তিনি দৈনিক কালবেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রতিনিধি। স্বজনেরা হামলার জন্য জোড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়ার সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
আহত সবুজ শাহরিয়ার সংজ্ঞাহীন হওয়ার আগেই বুধবার রাতেই এক ভিডিও বার্তায় হামলাকারীদের নাম বলেন। সাংবাদিক সবুজের বড় ভাই সেলিম রেজার ভাষ্য, বুধবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন সবুজ। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুর সমর্থক সুজন, রকি ও সোহেলসহ ১০-১২ লোক হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে তাঁকে শুরুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সবুজের মাথার হাড় ভেঙে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও পায়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে জানিয়ে সেলিম রেজা বলেন, এই ঘটনায় মামলা না করতে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম নানাভাবে তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া। তিনি বলেন, ‘সবুজ শাহরিয়ার আমার ভাতিজা হয়। আমি এই বিষয়টি জানতাম না। কারা হামলা করেছে সেটিও জানি না। তবে এটি নিন্দনীয়।’
কালবেলার ঝিনাইদহ ব্যুরো প্রধান মাহমুদ হাসান টিপু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন। তিনি দলবল নিয়ে নতুন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন। এতে নতুন করে সামাজিক দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এই দন্দ্বের জেরেই সবুজ শাহরিয়ারের ওপর হামলা হয়েছে।
এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় দাবি জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতারা। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন। হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহত সাংবাদিক চিকিৎসাধীন। পরিবার থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।